বিশ্বকাপের মঞ্চে রক্ষণাত্মক ও সাবধানী ফুটবলই যেন হয়ে উঠল দুই দলের মূল হাতিয়ার। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে। আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে ভরপুর হলেও পুরো ম্যাচে দেখা মেলেনি কোনো গোলের। গোলশূন্য ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত হাসি ফুটেছে অস্ট্রেলিয়ার মুখেই। এই ড্রয়ের সুবাদে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (পরবর্তী ধাপ) নিশ্চিত করেছে সকারুসরা। অন্যদিকে, নকআউটের টিকিট পেতে প্যারাগুয়েকে এখন থাকতে হচ্ছে চরম উৎকণ্ঠার অপেক্ষায়।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ড্রয়ের পর ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কোচ টনি পোপোভিচের শিষ্যরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী পর্বে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। তবে ওই গ্রুপে মিশর, ইরান, বেলজিয়াম ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচগুলো এখনো শেষ না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি। অন্যদিকে, ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা প্যারাগুয়ের ৪ পয়েন্ট থাকায় সেরা চার তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার জন্য তাদের অন্য গ্রুপের সমীকরণের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে শুরুতেই সাহসী কৌশল অবলম্বন করেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। শুরুর একাদশে একবারে ছয়টি পরিবর্তন আনেন তিনি। আক্রমণভাগে প্রাণশক্তি বাড়াতে ফিরিয়ে আনা হয় গতিশীল ফরোয়ার্ড নেস্তোরি ইরানকুন্দাকে এবং তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন ক্রিস্টিয়ান ভোলপাতো। অন্যদিকে, জ্যাকব ইতালিয়ানোর ইনজুরির (আঘাত) কারণে জর্ডান বস লেফট ব্যাক (বাঁদিকের রক্ষণভাগ) থেকে রাইট ব্যাক (ডানদিকের রক্ষণভাগ) পজিশনে চলে যান। ম্যাচের শুরুতেই ভোলপাতোর চমৎকার পাস থেকে পেনাল্টি বক্সের ভেতর বল পেয়েছিলেন জ্যাকসন আরভিন। কিন্তু তাঁর নেয়া কোনাকুনি শটটি সরাসরি প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের গ্লাভসে জমা হয়।
প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের আক্রমণভাগ ছিল সম্পূর্ণ নিষ্প্রাণ। প্রথম ৪৫ মিনিটে তারা মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হয়। দলটির এমন পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে বিরতির পর বড় পরিবর্তন আনেন কোচ গুস্তাভো আলফারো। তিনি মাঠে নামান ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার মাউরিসিওকে। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দূরপাল্লার এক শট নিলেও তা অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগে প্রতিহত হয়।
তবে হুলিও এনসিসোর অসাধারণ নৈপুণ্যে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরে আসে প্যারাগুয়ে। বারবার অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণব্যুহ ভেদ করে ত্রাস সৃষ্টি করছিলেন তিনি। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় জালের দেখা পায়নি দলটি। বিশেষ করে খেলা শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে এনসিসোর একটি নিচু শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে প্যারাগুয়ের সেরা সুযোগটি হাতছাড়া হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৮৯তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার জর্ডান বস দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চমৎকার দক্ষতায় বক্সে ঢুকে পড়েন, তবে তাঁর নেয়া শটটি পোস্টের ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। শেষ মুহূর্তে প্যারাগুয়ের মাউরিসিও সামান্য জায়গা পেয়ে শট নিলেও তা অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচ সহজেই লুফে নেন। নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে বাস্তবমুখী কৌশলী লড়াই দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট কাটল অস্ট্রেলিয়া