Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়া হায়দার

BNJK
29 August 2026, 01:53 AM পড়তে ১ মিনিট
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়া হায়দার

 আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গতি আনতে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতাদি প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ে ভোগ করবেন। সরকারের কার্যবিধি (রুলস অব বিজনেস) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ড. জিয়া হায়দারের পেশাদার জীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় ৩৫টি দেশে জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের একটি বড় সময় তিনি বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়োর) স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দপ্তরে দীর্ঘ সময় সেবা দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবসরে যান। অবসর পরবর্তী সময়ে তিনি ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ড. জিয়া হায়দারের জন্ম। তার বাবা মরহুম হরমুজ আলী ছিলেন সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব। ছাত্রজীবন থেকেই ড. জিয়া মেধাবী ও সাংগঠনিক দক্ষতার অধিকারী ছিলেন। আশির দশকে তিনি বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাদার জীবনে প্রবেশের পর তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

শিক্ষাজীবনে ড. জিয়া হায়দার শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক (এমবিবিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খাদ্য ও পুষ্টি পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর এবং সুইডেনের উমিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুষ্টি ও মহামারিবিদ্যায় (এপিডেমিওলজি বা রোগের বিস্তার সংক্রান্ত বিজ্ঞান) পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পারিবারিকভাবেও তারা অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত; তার সাত ভাইবোনের মধ্যে তিন ভাই চিকিৎসক এবং এক ভাই শিক্ষকতায় নিয়োজিত।

 একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ড. জিয়া হায়দারের মতো বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি যদি দেশের স্বাস্থ্য খাতের নীতিপ্রণয়নে ভূমিকা রাখেন, তবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সহজ হবে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি কতটুকু পেশাদারিত্বের সাথে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার আনতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়া হায়দার

B
BNJK | 22 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার