দেশের প্রতিটি নাগরিক, চাই তিনি পাহাড়ে বসবাস করুন কিংবা সমতলে, সবার সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় লোকজ সংস্কৃতি বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার এক বিশেষ বাণীতে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের এই উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসব উদযাপনকারী প্রতিটি সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশবাসীকে আসন্ন বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় গুরুত্বারোপ করে বলেন, "একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের পরিচয় অভিন্ন এবং অধিকারও সমান। ধর্ম, বর্ণ বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যেরই এক রঙিন অংশ।" তিনি মনে করেন, এই ধরনের উৎসবগুলো জাতীয় জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।
দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন যে, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সুদীর্ঘ ইতিহাস বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্যের সম্পদ। এই লোকজ বৈচিত্র্যই আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতি ও মিলনের যে শিক্ষা আমাদের ঐতিহ্যে মিশে আছে, তা আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সারা বিশ্বের কাছে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংবিধানে বর্ণিত প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
বিজু ও সাংগ্রাইয়ের মতো উৎসবগুলো পার্বত্য জনপদে যেমন আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে, তেমনি তা জাতীয় ঐক্যকে আরও মজবুত করে। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই উৎসব এবং বাংলা নববর্ষ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি ও চিরস্থায়ী শান্তি বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘোচাতে একটি ইতিবাচক বার্তা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের পরিচয় কেবল তার ভৌগোলিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সংবিধানে বর্ণিত অধিকারের সমান অংশীদারিত্বেই তা পূর্ণতা পায়। সম্প্রীতির এই অমিয় বাণী যদি মাঠ পর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।