দেশের কৃষি ও কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বছরের প্রথম দিনে এই বিশেষ উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন করবেন।
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশের অন্নদাতা কৃষকদের সম্মান জানাতে এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি সঠিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হবে। এর ফলে সরকারি ভর্তুকি, সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কৃষি খাতে ডিজিটাল বিপ্লব এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই কার্ড একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ প্রস্তুতি বৈঠকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক উপস্থিত ছিলেন। সভায় কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষক কার্ড বিতরণের কারিগরি ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তারা জানান, সারা দেশের মাঠ পর্যায়ে ইতিমধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে এবং উদ্বোধনের পর তা দ্রুতগতিতে বিতরণ করা হবে।
এছাড়া বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় কীভাবে ঘটানো হবে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বৈঠকে মাঠ পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না হয়। প্রকৃত কৃষকরাই যেন এই সেবার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। তিনি কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেন যেন পহেলা বৈশাখের উৎসবে কৃষকরা এই কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে নিজেদের কৃষি কাজের জন্য নতুন উদ্যম খুঁজে পান। উল্লেখ্য, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ভবিষ্যতে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন।