Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

পাহাড়ের রত্ন ঋতুপর্ণার স্বপ্নপূরণ: নতুন ঘর বানাতে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান

Roksana
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
পাহাড়ের রত্ন ঋতুপর্ণার স্বপ্নপূরণ: নতুন ঘর বানাতে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান

দেশের নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ও সুন্দর ঠাঁইয়ের স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। নিজ গ্রামে পরিবার নিয়ে একটি নতুন ঘর নির্মাণের জন্য এই অদম্য খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা এক লড়াকু কন্যার প্রতি রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে নিজ কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঋতুপর্ণার হাতে অনুদানের এই অর্থ তুলে দেন সরকারপ্রধান। এ সময় সংসদে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়-ব্যয়ের হিসাব বা বাজেট অধিবেশন চলছিল। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনের এক ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নারী ফুটবলের এই কৃতি খেলোয়াড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করতে এই সম্মাননা উপহার দেন।

এই আনন্দঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ক্রীড়া সংগঠক। তাদের মধ্যে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। এছাড়া দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি তাবিথ আউয়ালও সেখানে উপস্থিত থেকে পাহাড়ের এই কৃতি খেলোয়াড়কে উৎসাহ জোগান।

পাহাড়ি জনপদের এক অতি সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। দুর্গম পাহাড়ের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ থেকে সবুজ ঘাসের আন্তর্জাতিক মাঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই পথচলা তার জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথ মাড়িয়ে, অভাব-অনটন আর সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি আজ লাল-সবুজ পতাকার এক গর্বিত প্রতিনিধি। পরিবারের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও ফুটবলকে তিনি আঁকড়ে ধরেছিলেন নিজের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হিসেবে। সেই স্বপ্নের পথে ছুটেই আজ তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের মর্যাদা উঁচিয়ে ধরেছেন। পাহাড়ের কোলে একটি নিজস্ব ও পাকা ঘরের স্বপ্ন তার দীর্ঘদিনের, যা এবার সরকারপ্রধানের একান্ত উদ্যোগে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

দেশের নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক যত বড় সাফল্য, তার প্রায় প্রতিটির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ঋতুপর্ণা চাকমার নাম। মাঠের খেলায় তার পায়ের জাদুকরী কৌশল আর বল নিয়ন্ত্রণের অসামান্য ক্ষমতা বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ এবং ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল আসরে (সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ) বাংলাদেশের টানা শিরোপা জয়ের নেপথ্যে তার ছিল অনন্য ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা। সদ্য সমাপ্ত আসরেও তিনি দলের মাঝমাঠের অন্যতম বড় ভরসার জায়গা ছিলেন।

শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, এশিয়ার বৃহৎ মঞ্চেও ঋতুপর্ণার অবদান অনস্বীকার্য। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ার ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসরের (এশীয় নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ) চূড়ান্ত পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবলের ইতিহাসে এই যুগান্তকারী অর্জনের পেছনেও এই পাহাড়ি কন্যার ঘাম ঝরানো পরিশ্রম ও দুর্দান্ত নৈপুণ্য মিশে আছে। তার মতো লড়াকু খেলোয়াড়দের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণেই লাল-সবুজের নারী দল আজ বিশ্বমঞ্চে সমীহ জাগানিয়া এক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজস্র সাধারণ মেয়ে, যারা সমাজ ও দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে নিজেদের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করে, তাদের জন্য ঋতুপর্ণা এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুদান শুধু ঋতুপর্ণার পরিবারের মুখে হাসিই ফোটাবে না, বরং সেই সব হাজারো কিশোরীকেও বার্তা দেবে যে, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের জন্য কিছু করলে রাষ্ট্র কখনো তার সন্তানদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেয় না।


দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহযোগিতা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দৃষ্টান্ত। ঋতুপর্ণা চাকমার মতো যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন, তাদের আবাসন, চিকিৎসা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। একটি নতুন ঘরের এই উপহার শুধু ঋতুপর্ণার পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টই লাঘব করবে না, বরং দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা হাজারো সুপ্ত প্রতিভাকে দেশের জন্য ঘাম ঝরাতে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। সরকারের এই উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের ক্রীড়া খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
খেলাধুলা

পাহাড়ের রত্ন ঋতুপর্ণার স্বপ্নপূরণ: নতুন ঘর বানাতে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান

R
Roksana | 09 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার