৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ ফিফা (আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন) বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টনাক হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্প্যানিশরা। মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পাশাপাশি এই মেগা টুর্নামেন্ট থেকে বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি (পুরস্কারের অর্থ) আয় করে নিয়েছে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলসহ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশ।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছিল। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরুর আগেই ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পুরস্কারের মোট অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পূর্ববর্তী আসরের তুলনায় এবার সামগ্রিক প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। সদ্যসমাপ্ত এই আসরের জন্য ফিফার মোট বাজেট বা প্রাইজমানি নির্ধারিত হয়েছিল ৮৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩.১২ টাকা বিনিময় হার হিসেবে)।
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনালী ট্রফির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে স্পেন। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্প্যানিশরা প্রাইজমানি হিসেবে পাচ্ছে মোট ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে শিরোপা হাতছাড়া করে রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনা ঘরে তুলছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৪০৬ কোটি টাকার সমতুল্য।
ফাইনালে উঠতে না পারলেও বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া দুই দল। টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ইংল্যান্ড পাচ্ছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা। আর চতুর্থ স্থানে থেকে আসর শেষ করা সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের পকেটে যাচ্ছে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা।
শুধু সেমিফাইনালিস্টরাই নয়, নকআউট পর্বের অন্যান্য ধাপ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে বড় অঙ্কের প্রাইজমানি। কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ আট) থেকে বাদ পড়া চারটি দলের প্রতিটি দল পেয়েছে ২৩৩ কোটি টাকা করে। এছাড়া শেষ ষোলোর রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া আটটি দল পেয়েছে প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা করে। আর শেষ ৩২ দলের রাউন্ড থেকে ছিটকে যাওয়া ১৬টি দলের প্রত্যেকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা করে।
এমনকি গ্রুপ পর্ব খেলে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোও খালি হাতে বাড়ি ফিরছে না। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পুরস্কার হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দলের ভাগ্যে জুটেছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জমকালো এই আসরটি যেমন মাঠের খেলায় নতুন রোমাঞ্চ সৃষ্টি করেছে, ঠিক তেমনি প্রাইজমানির দিক থেকেও তৈরি করেছে নতুন এক রেকর্ড।
ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পুরস্কারের পাশাপাশি এই বিপুল অঙ্কের প্রাইজমানি বিশ্ব ফুটবলকে আরও চাঙ্গা করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ছোট দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশন এই অর্থ দিয়ে তাদের ঘরোয়া ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং নতুন প্রতিভা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সব মিলিয়ে মাঠের উত্তেজনা আর মাঠের বাইরের আর্থিক প্রাপ্তি—উভয় দিক থেকেই এই বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।