নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বিশ্রামে রেখেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপ অভিষেকের পর গত ২০ বছরে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিকে ছাড়া শুরুর একাদশ মাঠে নামার এমন অভিজ্ঞতা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল একেবারেই নতুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার পর মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধানেই নিজের চেনা ছন্দ প্রদর্শন করলেন এই ফুটবল জাদুকর। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে তিনি গড়েছেন বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য কীর্তি।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথমার্ধে জিওভানি লো সেলসো এবং লাউতারো মার্টিনেজ একটি করে গোল করে দলের জয় সহজ করে দেন। এরপর ম্যাচের বয়স যখন ৬০ মিনিট পার হয়, তখন দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন অধিনায়ক মেসি। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি চমৎকার ফ্রি-কিক (মুক্ত শট) থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন তিনি।
বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকটির সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, মার্কোস সেনেসি ও নিকোলাস ওটামেন্ডি প্রতিপক্ষের রক্ষণদেয়ালের সামনে নিজেদের মতো আরেকটি দেয়াল তৈরি করেন। এতে জর্ডানের গোলরক্ষকের দৃষ্টিসীমা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জর্ডানের দ্বিমুখী রক্ষণদেয়ালকে ফাঁকি দিয়ে নিপুণ ও নিচু শটে বল জালে জড়ান মেসি। জর্ডানের গোলরক্ষক আবদুলাইলা শুধু অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বল জালে জড়ানো দেখলেন।
এই দৃষ্টিনন্দন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। এর আগে টানা sechs বা ছয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন ১৯৫৮ সালের ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৭০ সালের ব্রাজিলের তারকা জেয়াজিনহো। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করার মধ্য দিয়ে মেসি এই দুই মহান ফুটবলারকে ছাড়িয়ে এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক হলেন।
চলতি আসরে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন আলবিসেলেস্তে (আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাকনাম) অধিনায়ক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক (একই ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের তিনটি গোল করা) করার মধ্য দিয়ে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করেন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে করেন আরও দুটি গোল। প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছিল তার পা থেকে। জর্ডানের বিপক্ষে গোলটির মাধ্যমে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে, যা তাকে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার গোল সংখ্যা চার।
শুধুমাত্র গোল করাই নয়, মাঠের নেতৃত্ব এবং অ্যাসিস্টের (অন্য খেলোয়াড়কে দিয়ে গোল করানো) ক্ষেত্রেও এবারের বিশ্বকাপে অনন্য অবদান রাখছেন এই ফুটবল তারকা। তার এই অনবদ্য পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটের কঠিন লড়াইয়ে মেসির এই চেনা ছন্দ আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে ট্রফি জয়ের আশার আলো আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।