বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আরও একবার অধরাই রয়ে গেল ইংল্যান্ডের। সেমিফাইনালে (চূড়ান্ত পর্বের আগের ধাপ) আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় হারের পর গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ম্যাচ শেষে অত্যন্ত বিধ্বস্ত কণ্ঠে তিনি জানান, এই পরাজয় খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
বুধবারের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল থমাস টুখেলের শিষ্যরা। কিন্তু গোল হজম করার পর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তার সামনে আর টিকতে পারেনি ইংলিশরা। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের লক্ষ্যভেদে দারুণ জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পা রাখে আলবিসেলেস্তেরা (আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাকনাম)।
ম্যাচ শেষে নিজের মনের ভেতরের কষ্ট চেপে রাখতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। দলের সব সহখেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ (প্রশিক্ষক দল) এবং কোটি কোটি সমর্থকের জন্য আমার ভীষণ খারাপ লাগছে। ম্যাচের অধিকাংশ সময় আমরা বেশ ভালো ফুটবল খেলেছি। আমরাই প্রথম গোল করে ম্যাচে লিড (এগিয়ে থাকা) নিয়েছিলাম। কিন্তু গোল পাওয়ার পর আমাদের মধ্যে কেবল সেই লিড ধরে রাখার প্রবণতা দেখা গেছে। এই স্তরের ফুটবলে রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচ জেতা অসম্ভব।”
কঠোর পরিশ্রমের পরও এমন হারে হতাশ কেইন আরও বলেন, “আমরা এই পর্যায় পর্যন্ত আসতে প্রচুর পরিশ্রম করেছি এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। এভাবে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া সত্যিই মানা কঠিন।”
ইংল্যান্ড কেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাল, তার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার (আক্রমণভাগের খেলোয়াড়)। তাঁর মতে, “প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয় অর্ধেকের শুরুতে আমরা প্রতিপক্ষের ওপর ভালো চাপ সৃষ্টি করতে পেয়েছিলাম। আমরা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছি এবং মাঝমাঠে আধিপত্য বজায় রেখেছি। কিন্তু গোল করার পর আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। সেই তীব্র চাপ আমরা সামলাতে পারিনি। আমরা শট ব্লক (আটকে দেওয়া) করার চেষ্টা করেছি, রক্ষণভাগকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছি, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।”
এত বড় ধাক্কার পরও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন কেইন। তিনি মনে করেন, বড় কোনো শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি রয়েছে তাঁর দল। কেইন বলেন, “চলতি টুর্নামেন্টে আমাদের বেশ কিছু চমৎকার মুহূর্ত ছিল। আমরা আবারও সেমিফাইনালে উঠেছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভালো পারফর্ম করছি, সফলতার দরজায় কড়া নাড়ছি। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, কিন্তু শেষ ধাপটি পার হতে এখনও কিছু একটা ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে খেলা শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন।”
বিশ্বকাপের মূল লড়াই থেকে বিদায় নিলেও ইংল্যান্ড দলের অভিযান এখনই শেষ হচ্ছে না। আগামী ১৮ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে কেইনরা। অন্তত ব্রোঞ্জ পদকটি জিতেই দেশে ফিরতে চাইবে থ্রি লায়ন্সরা (ইংল্যান্ড দলের ডাকনাম)।