ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রধান কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচ পরিচালনা করতে মাঠে নামছেন বিশ্বজয়ী ফুটবলার ও কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। বিশ্বকাপের মর্যাদাপূর্ণ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তাঁর দল। বিদায়ী এই ম্যাচে ফরাসি একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশ্যম। তবে শেষ ম্যাচে দলের প্রধান তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে শুরুর একাদশেই রাখছেন তিনি, যাতে এই তরুণের সামনে গোল্ডেন বুট (টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার) জয়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
এবারের টুর্নামেন্টে ফ্রান্স ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও মাঠের লড়াইয়ে এমবাপে ছিলেন অনন্য। বর্তমানে আটটি গোল নিয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। তবে মেসি একটি বেশি অ্যাসিস্ট (সতীর্থকে দিয়ে গোল করানো) করায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের সমীকরণে যুক্ত হবে। তাই শেষ ম্যাচে গোল করে এককভাবে এই পুরস্কার নিজের করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে ফরাসি ফরোয়ার্ডের সামনে।
নির্ধারণী ম্যাচ ও বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে দিদিয়ের দেশ্যম বলেন, "দলের খেলোয়াড়রা কে খেলল আর কে খেলল না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে কোচ হিসেবে আমার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো আসন্ন ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা। এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং আমি কৌশলগত কারণে একাদশে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসব।"
২০১২ সালে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়া দিদিয়ের দেশ্যম এর আগে ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে ফরাসিদের প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ এক যুগের কোচিং ক্যারিয়ারের বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত দেশ্যম বলেন, "আমি জানি এটিই আমার শেষ ম্যাচ। এই দীর্ঘ পথচলায় আমি যেমন অভূতপূর্ব আনন্দের মুহূর্ত পেয়েছি, তেমনি কিছু কঠিন সময়ের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। তবে জীবন তার নিজস্ব নিয়মেই চলে। ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করা আমার পেশাদার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় হয়ে থাকবে।"
এদিকে, শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থানের জন্য মাঠে নামা মানসিকভাবে বেশ কঠিন বলে স্বীকার করেছেন ফরাসি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার) ইব্রাহিমা কোনাতে। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের বক্তব্যের সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, "অবশ্যই আমরা ফাইনাল খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আমরা এখনো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। লাখো তরুণের স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো এবং মাঠে দাঁড়িয়ে ‘মার্সেইয়েজ’ (ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত) গাওয়া। তাই এই জার্সির প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।"
আমেরিকার মায়ামি স্টেডিয়ামে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় শুরু হবে।