আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে এক শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। দলে চার নতুন মুখের পাশাপাশি কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের চমক দিয়ে সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ঘোষিত এই দলে টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা চারজন তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন—আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজি ঘোরি। এই চারজনের মধ্যে কেবল উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান গাজি ঘোরির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সামান্য অভিজ্ঞতা রয়েছে; গত মাসে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি একদিনের ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বাকি তিনজনের কাছে এই সফরটি হবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ।
পাক দলের নেতৃত্বে যথারীতি থাকছেন শান মাসুদ। তবে দলটির পর্দার অন্তরালে অর্থাৎ কোচিং স্টাফে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। কিছুদিন আগে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়া পাকিস্তানের অন্যতম সফল অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে এই সিরিজের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে পাকিস্তানকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর লড়াই) জেতানো এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে কোচ হিসেবে পেয়ে উজ্জীবিত দলটি। সরফরাজকে সহায়তা করতে ব্যাটিং কোচ হিসেবে থাকছেন আসাদ শফিক এবং বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন গতিদানব উমর গুল।
বর্তমানে পাকিস্তান দলের প্রস্তুতির কাজ পুরোদমে চলছে। স্কোয়াডের পাঁচজন সদস্য লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে (পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ) ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, যেসব ক্রিকেটার বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ব্যস্ত রয়েছেন, তারা বাদে বাকিরা ২৭ এপ্রিল থেকে করাচিতে একটি বিশেষ অনুশীলনে যোগ দেবেন। ১ মে পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলার পর ২ মে দলটি বাংলাদেশে পা রাখবে। আর যারা পিএসএলের চূড়ান্ত পর্বে খেলবেন, তারা ৩ মে সরাসরি বাংলাদেশে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
দুই দেশের মধ্যকার এই লড়াইয়ের প্রথম টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ মে থেকে ১২ মে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে সিলেটের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে, যা ১৬ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলবে। বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে এই সিরিজটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের কোচিং প্যানেলে সাবেক তারকাদের অন্তর্ভুক্তি এটাই প্রমাণ করে যে, তারা বাংলাদেশের কন্ডিশনকে (মাঠ ও আবহাওয়া পরিস্থিতি) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিশেষ করে সরফরাজ আহমেদের মতো চতুর ক্রিকেটারের মস্তিষ্ক বাংলাদেশের স্পিন বান্ধব উইকেটে স্বাগতিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নতুন ও অভিজ্ঞদের এই মিশেল বাংলাদেশের মাটিতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।