দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এই দলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ফিরে এসেছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা তারকা নেইমার জুনিয়র, যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের সকল জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে অনুষ্ঠিত হলো সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা। অনুষ্ঠানে নেইমারের নাম উচ্চারণের সাথে সাথেই উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাস আর করতালিতে পুরো পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেলেন এই ৩৪ বছর বয়সী তারকা। এটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমার বর্তমানে ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা।
আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে লড়তে হবে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড নিয়ে গড়া গ্রুপে। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দলকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবার অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের এক অনন্য মিশ্রণ ঘটিয়েছেন কোচিং প্যানেল।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে গোলরক্ষক হিসেবে রাখা হয়েছে আলিসন, এদেরসন এবং ওয়েভারতনকে। রক্ষণভাগ সামলাতে থাকছেন অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, দগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল, রজার ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস এবং ওয়েসলি। মাঝমাঠের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন ব্রুনো গিমারেস, কাসেমিরো, দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও এবং লুকাস পাকেতা।
আক্রমণভাগের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, নেইমারের সঙ্গে থাকছেন এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, লুইস এনরিকে, মাথেউস কুনিয়া, রাফিনিয়া, রায়ান এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নেইমার ছাড়াও এই আক্রমণভাগ বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে।
বিশ্বকাপের এই দল ঘোষণার পর ফুটবল বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তদের মধ্যেও দারুণ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন দলে না থাকা নেইমারকে আবার হলুদ জার্সিতে দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ব্রাজিল। কোচের এই সিদ্ধান্ত মাঠের খেলায় কতটুকু প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
ফুটবলের দেশ ব্রাজিলের জন্য প্রতিটি বিশ্বকাপই একটি বিশাল আবেগের নাম। নেইমারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্তটি যেমন সাহসিকতার, তেমনি তা দলের ভারসাম্যও অনেক বাড়িয়ে দেবে। তবে তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে অভিজ্ঞতার এই সমন্বয় মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তরা আশা করছেন, এই দলটির হাত ধরেই ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ঘরে তুলবে।