প্যারাগুয়ের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির আকস্মিক বিদায়ের পর দেশটির ফুটবল মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই বিপর্যয়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের প্রতি সরাসরি সমর্থন প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি)। উল্টো সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, শেষ-৩২ পর্বের এই হতাশাজনক পরাজয়ের পর সবকিছু আর আগের মতো চলতে পারে না।
বিশ্বমঞ্চে জার্মানির এই বিদায় দলটির এক দশকের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতাকে আরও দীর্ঘায়িত করল। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটিই ছিল নকআউট (সরাসরি বিদায় পদ্ধতি) পর্বে জার্মানির প্রথম ম্যাচ। কিন্তু সেখানেও ভাগ্য বদলায়নি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এর আগে সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপেই তারা গ্রুপ পর্ব বা শুরুর ধাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল। এছাড়া সর্বশেষ দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও কোয়ার্টার-ফাইনালের গণ্ডি পার হতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
এই চরম ব্যর্থতার পর ডিএফবি সভাপতি বের্ন্ড নয়েনডর্ফ ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কঠোর তদন্ত করা হবে। এই তদন্তে কোচের ভবিষ্যৎ এবং দেশের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। ইতিমধ্যে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে ফেডারেশন।
নয়েনডর্ফ জানান, পরাজয়ের পরপরই তিনি কোচ নাগেলসম্যান এবং ক্রীড়া পরিচালক রুডি ফয়লারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা সবাই একমত যে বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্স নিজেদের মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে ছিল। এমন একটি ধ্বংসাত্মক ধাক্কার পর আমরা কোনোভাবেই সবকিছু আগের নিয়মে চলতে দিতে পারি না। আমাদের পরিবর্তনের পথেই হাঁটতে হবে।”
২০২৩ সালে কোচের দায়িত্ব নেওয়া নাগেলসম্যানের সঙ্গে ডিএফবির ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। হান্সি ফ্লিককে বরখাস্ত করার পর তরুণ এই কোচের ওপর ভরসা রেখেছিল জার্মানি। কিন্তু বিশ্বকাপের এই বিপর্যয়ের পর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা এখন তুঙ্গে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অধিনায়ক লোথার ম্যাথুস সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “নাগেলসম্যানকে দায়িত্বে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর খেলায় ট্যাকটিক্যাল (কৌশলগত) কোনো নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা ছিল না।” ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ম্যাটস হামেলসও মনে করেন, এই ফলাফলের দায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিতে হবে। তিনি বলেন, “জার্মানির এই ব্যর্থতা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।”
এদিকে দলের ক্রীড়া পরিচালক রুডি ফয়লার নাগেলসম্যানকে একজন লড়াকু ও দক্ষ কোচ হিসেবে বর্ণনা করলেও তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেননি। তিনি জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত ফেডারেশনের সম্মিলিত আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে নাগেলসম্যানের উত্তরসূরি হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে সাবেক লিভারপুল কোচ ইউর্গেন ক্লপের নাম শোনা গেলেও ক্লপ নিজে এ নিয়ে এখনই কথা বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, “একটি বড় স্বপ্ন ভাঙার পর এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানো কঠিন। জাতীয় দলের কোচের প্রশ্নে আমার নাম আসাটা স্বাভাবিক হলেও এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সঠিক সময় নয়।”
জার্মান ফুটবলের এই সংকট কাটাতে ফেডারেশন কত দ্রুত বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।