বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিশ্বমঞ্চে শেষবারের মতো নিজের পায়ের জাদুকরী দ্যুতি ছড়াতে মরিয়া হয়ে আছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। দুর্ভাগ্যজনক চোটের কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে থাকলেও, শতভাগ ফিটনেস ফিরে পেতে কঠোর পরিশ্রম আর ঘাম ঝরাচ্ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। শুধু অগণিত ভক্ত-সমর্থকই নন, সেলেসাওদের পুরো দলই এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে তাদের তুরুপের তাসের প্রত্যাবর্তনের দিকে। দলের সবারই দৃঢ় বিশ্বাস, সবুজ গালিচায় নেইমারের নিছক উপস্থিতিই যেকোনো প্রতিপক্ষকে বাড়তি মানসিক ও কৌশলগত চাপে রাখার জন্য যথেষ্ট।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দলের নিবিড় অনুশীলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের গুরুত্ব ও দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানিলো। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, দলের প্রাণভোমরা মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে।
কটিটিক্যাল বা কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করে দানিলো বলেন, ‘আপনার একাদশে যখন নেইমারের মতো বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড় থাকবে, তখন প্রতিপক্ষ দল স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি চাপে ভুগবে। তাকে আটকানোর জন্য তারা সব সময়ই বাড়তি রক্ষণাত্মক সাহায্য চাইবে।’
নেইমারকে কড়া পাহারায় (মার্ক) রাখার কারণে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা কীভাবে লাভবান হন, তার একটি নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেন এই ডিফেন্ডার। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘মাঠে যখন প্রতিপক্ষের দুজন খেলোয়াড় কেবল নেইমারকে মার্ক করতে ব্যস্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দলের অন্য কোনো ফরোয়ার্ড বা মিডফিল্ডার একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পেয়ে যান। ফাঁকা জায়গা (স্পেস) পাওয়ার এই বিষয়টি আমাদের আক্রমণভাগকে ভীষণভাবে সাহায্য করতে পারে।’
মাঠে নেইমারের প্রভাব প্রসঙ্গে দানিলো আরও যোগ করেন, ‘মাঠে কেবল নেইমারের উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের সাজানো গেমপ্ল্যান এলোমেলো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে এই মুহূর্তে আমাদের বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই এগোতে হবে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, সে খুব দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং মাঠে নেমে আমাদের সাহায্য করতে পারবে। ফুটবলে তার খেলার মান ও প্রতিভা তো এরই মধ্যে সবার কাছে প্রমাণিত, নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই।’
জানা গেছে, গত মে মাসে সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাফ মাসল বা পায়ের পেশির গুরুতর চোটে পড়েন এই তারকা ফরোয়ার্ড। মূলত এরপর থেকেই পূর্ণাঙ্গ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার এক কঠিন ও নিরলস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তবে আশার কথা হলো, সম্প্রতি ব্রাজিল ক্যাম্প থেকে সমর্থকদের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক খবর আসতে শুরু করেছে। চোটের পর শুরুতে এককভাবে ফিটনেস অনুশীলন করলেও, নেইমার এখন সতীর্থদের সঙ্গে রীতিমতো বল পায়ে দলীয় অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই দলীয় অনুশীলনে ফেরাকে কেন্দ্র করে পুরো দলেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সতীর্থরা তাকে ঐতিহ্যবাহী ‘টানেল অব ফায়ার’ বা আনন্দঘন অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন, যা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এত সব ইতিবাচক লক্ষণের পরও, ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল টিম কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে একেবারেই রাজি নয়। দলের সবচেয়ে বড় তারকার বিষয়ে তারা বেশ সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিচ্ছেন। সান্তোস তারকার পায়ের পেশির পুরোনো চোট যেন তড়িঘড়ি করে মাঠে নামার কারণে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে, সে জন্য হাইতির বিপক্ষে আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচে তার মাঠে নামা নিয়ে এখনো কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে। কোচিং স্টাফরা চাইছেন, শতভাগ ফিট হওয়ার পরই নেইমার তার চেনা রূপে বিশ্বমঞ্চে ফিরুক।