ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মহারণে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। ব্যাট হাতে সাঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী শতক আর বল হাতে আকিল হোসেনের জাদুকরী ঘূর্ণিতে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ব্যাটিং স্বর্গে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই অধিনায়ক। তবে ঘরের মাঠে তাদের সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় চেন্নাইয়ের ওপেনারদের দাপটে। শুরুতেই অধিনায়ক রুতুরাজ গাইকোয়াড ১৪ বলে ২২ রানের একটি ছোট কিন্তু ঝড়ো ইনিংস খেলে গতির সুর বেঁধে দেন। এরপর ক্রিজে এসে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন সাঞ্জু স্যামসন।
মাঝপথে সরফরাজ খান, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও কার্তিক শর্মারা ছোট ছোট কার্যকর ইনিংস খেলে সাঞ্জুকে যোগ্য সঙ্গ দেন। বিশেষ করে তরুণ তুর্কি ব্রেভিস ১১ বলে ২১ রান তুলে দলের রানের গতি সচল রাখেন। মুম্বাইয়ের সেরা অস্ত্র জাসপ্রিত বুমরাহ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে কিছুটা চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও সাঞ্জু ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৫৪ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানো এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে চেন্নাইয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২০৭ রান।
২০৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে শুরু থেকেই। চেন্নাইয়ের হয়ে প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড় (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার) হিসেবে মাঠে নামা ক্যারিবীয় স্পিনার আকিল হোসেন একাই প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তার বিষাক্ত ঘূর্ণিতে একে একে সাজঘরে ফেরেন মুম্বাইয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাটাররা। আকিল একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন, আর তাকে যোগ্য সহায়তা দিয়ে নুর আহমেদ তুলে নেন ২ উইকেট।
মুম্বাইয়ের বড় বড় তারকারা এদিন যেন ব্যাট চালাতেই ভুলে গিয়েছিলেন। হার্দিক পান্ডিয়া কিংবা সূর্যকুমার যাদব—কারও ব্যাট থেকেই কোনো প্রতিরোধ আসেনি। ফলে মাত্র ১০৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় মুম্বাই। ১০৩ রানের এই বড় জয়টি আইপিএল ইতিহাসে চেন্নাইয়ের জন্য রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত হলো।
এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার আট নম্বরে ধুঁকছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের লড়াই মানেই টানটান উত্তেজনা, কিন্তু বৃহস্পতিবারের ম্যাচে লড়াই হলো কেবল একতরফা। সাঞ্জুর পরিণত ব্যাটিং আর আকিলের কার্যকর স্পিন চেন্নাইকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ের ব্যাটিং ব্যর্থতা ও বোলিংয়ের ধার কমে যাওয়া তাদের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এই বিশাল হার মুম্বাইয়ের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।