Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

মিরপুরে বাংলাদেশি বোলারদের তোপ: হারের শঙ্কায় খাদের কিনারে অস্ট্রেলিয়া

Roksana
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
মিরপুরে বাংলাদেশি বোলারদের তোপ: হারের শঙ্কায় খাদের কিনারে অস্ট্রেলিয়া

২৮৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের গতির আগুনে রীতিমতো দিশেহারা শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। মিরপুরের চিরচেনা উইকেটে তাসকিন, মোস্তাফিজ ও তরুণ পেসার নাহিদ রানার তোপে মাত্র ১৩৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয়ের প্রহর গুনছে সফরকারীরা; অন্যদিকে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে জয়ের সুবাস পাচ্ছে টাইগাররা।


মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। সাধারণত মিরপুরের উইকেট স্পিনারদের (ঘূর্ণি বোলারদের) জন্য অনুকূল হলেও, এদিন শুরু থেকেই অজি ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসাররা (গতিতারকারা)। ইনিংসের একেবারে প্রথম বলেই উদ্বোধনী ব্যাটার ম্যাথু শর্টের স্টাম্প উপড়ে ফেলেন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় স্কোরে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই প্রথম আঘাত হেনে গ্যালারিভর্তি হাজারো দর্শকের উল্লাসে মাতান তিনি।

সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পরের ওভারে বল হাতে ভেলকি দেখান মোস্তাফিজুর রহমান। তার নিখুঁত নিশানার বলে এলবিডব্লিউ (পায়ের প্যাডে বল লাগার কারণে আউট) হয়ে সাজঘরে ফেরেন মার্নাস লাবুশেন। ব্যক্তিগত ১ রানে আম্পায়ার প্রথমে তাকে আউট না দিলেও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বিচক্ষণ রিভিউ (সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন) নেওয়ার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই অজি তারকা। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ভীষণ চাপে পড়ে যায় ক্যাঙ্গারুর দেশ।

শুরুর এই জোড়া ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন জশ ইংলিশ ও কপার কনোলি। তবে তাদের সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তরুণ উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা। তার দুর্দান্ত গতির এক ডেলিভারিতে (নিক্ষেপ করা বল) ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন ইংলিশ। ১৯ রান করে তিনি ফিরে গেলে ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপর দৃশ্যপটে আসেন দীর্ঘ চার বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরা অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। ব্যাট হাতে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলার পর বল হাতেও তিনি অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই তার দারুণ ঘূর্ণি বলের লাইন বুঝতে না পেরে সরাসরি বোল্ড (স্টাম্প ভেঙে যাওয়া) হয়ে যান উইকেটে থিতু হওয়া ব্যাটার কপার কনোলি। ৩৫ রানের মাথায় তিনি ফিরে গেলে দলীয় ১০০ রান ছোঁয়ার আগেই, অর্থাৎ ৯১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে খাদের একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

দলের এই চরম বিপদে হাল ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করেন অ্যালেক্স ক্যারে। তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করলেও নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানেন। ব্যক্তিগত অর্ধশতক থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে রানার পেসে বিভ্রান্ত হয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ক্যারে। ৪৭ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলে তিনি ফিরে যাওয়ার পর অজিদের ম্যাচ জেতার আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৩০ ওভার ৪ বল শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৭ উইকেটে মাত্র ১৩৮ রান। জয়ের জন্য বাকি ১৯ ওভার ২ বলে তাদের আরও ১৪৭ রান করতে হবে, যেখানে ওভারপ্রতি রান তোলার প্রয়োজন সাড়ে সাতের বেশি। ক্রিজে স্বীকৃত ব্যাটার না থাকায় এবং হাতে মাত্র ৩ উইকেট থাকায় এই সমীকরণ মেলানো সফরকারীদের জন্য অসম্ভব এক পাহাড় টপকানোর মতোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে, সিরিজের প্রথম এই দিবারাত্রির ম্যাচে মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮৪ রানের লড়াকু ও বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। মিরপুরের মাঠে এই রান বরাবরই প্রতিপক্ষের জন্য ভীতিকর। টাইগারদের এই বিশাল স্কোরের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন চার বছর পর দলে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন। নিজেকে প্রমাণের তাগিদে তিনি দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শান্তর ব্যাট থেকে আসে দায়িত্বশীল ৬৭ রান এবং তামিম করেন আক্রমণাত্মক ৫৪ রান। এছাড়া ইনিংসের শেষভাগে তাসকিন আহমেদ মাত্র ১৫ বলে ২০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে ২৮৪-তে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


মিরপুরের চিরচেনা স্পিন সহায়ক উইকেটে এবার পেসারদের এমন দাপট বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। তাসকিন, মোস্তাফিজের অভিজ্ঞতার সাথে নাহিদ রানার মতো তরুণ পেসারের অদম্য গতি অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাক্রমশালী দলকেও যে কতটা কোণঠাসা করতে পারে, এই ম্যাচ তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। দীর্ঘ বিরতির পর মোসাদ্দেক হোসেনের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে যেমন সঠিক প্রমাণ করেছে, তেমনি দলের মিডল অর্ডারেও বাড়তি ভরসা যুগিয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
খেলাধুলা

মিরপুরে বাংলাদেশি বোলারদের তোপ: হারের শঙ্কায় খাদের কিনারে অস্ট্রেলিয়া

R
Roksana | 09 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার