বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন ফুটবল বিশ্বের তিন মহাতারকার মহাকাব্যিক লড়াইয়ের রোমাঞ্চ। একদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে তাঁর রাজত্বে ভাগ বসাতে চাওয়া কিলিয়ান এমবাপে এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। সোমবার একই দিনে এই তিন তারকার জোড়া গোলের ঝলক ফুটবল ভক্তদের দারুণ এক রাত উপহার দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বকাপের গোলদাতার লড়াই বা গোল্ডেন বুট (সেরা গোলদাতার পুরস্কার) জয়ের প্রতিযোগিতা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁর সামনে সুযোগ ছিল টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করার। কিন্তু পেনাল্টি (পেনাল্টি কিক বা পেনাল্টি শট) থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। বলটি পোস্টের বাইরে মারলে ভক্তরা আরও একবার বুঝতে পারেন যে মেসিও ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তিনবার পেনাল্টি মিস করলেন তিনি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড।
তবে এই ব্যর্থতার পরই মেসি তাঁর চেনা রূপ ধারণ করেন। ম্যাচের পরবর্তী সময়ে চমৎকার দুটি গোল করে অস্ট্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ১৮ গোল নিয়ে তিনি সেই বিশ্বরেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিলেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (২৮টি), সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া (১৮টি) এবং সবচেয়ে বেশি সময় (২ হাজার ৪৮৯ মিনিট) মাঠে থাকার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে।
মেসির এই আকাশচুম্বী কীর্তি স্পর্শ করতে কিলিয়ান এমবাপের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। তবে গোলের গতিতে ফরাসি এই তারকা মেসির ঠিক পিঠেই নিঃশ্বাস ফেলছেন। সেনেগালের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে এমবাপেও করেছেন জোড়া গোল। তাঁর প্রথম গোলটি ছিল দেখার মতো—ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের বাঁকানো শটটি এই আসরের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিতীয় গোলটি এসেছে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুল থেকে। এমবাপের ঝুলিতে এখন ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল। মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই তিনি যেভাবে এগোচ্ছেন, তাতে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি তাঁর দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই দুই অভিজ্ঞ তারকার চেয়ে বয়স ও অভিজ্ঞতায় অনেকটাই পিছিয়ে নরওয়ের ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ড। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের মূল ভরসা তিনিই। ইরাকের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করার পর, সোমবার সেনেগালের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে দলকে পরবর্তী রাউন্ড বা নকআউট (সরাসরি বিদায় পর্ব) পর্বে নিয়ে গেছেন তিনি। নরওয়ে বিশ্ব আসরের ফেভারিট (শিরোপার দাবিদার) না হলেও হলান্ড যে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে প্রবলভাবে টিকে আছেন, তা নিশ্চিত। দল যতদূর যাবে, হলান্ডের নামের পাশে গোলের সংখ্যা যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে বাজি ধরাই যায়।