মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ এক রুদ্ধশ্বাস রানের লড়াই দেখল ক্রিকেটপ্রেমীরা। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে সাজানো এই ম্যাচে স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১৮ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
আইপিএল ২০২৬-এর ২০তম ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয়েছিল দুই শক্তিশালী দল মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু। ঘরের মাঠে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুম্বাই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তবে তার এই সিদ্ধান্তকে শুরুতেই ভুল প্রমাণ করেন বেঙ্গালুরুর ওপেনার ফিল সল্ট। মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের পসরা সাজিয়ে মাত্র ৩৬ বলে ৭৮ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল ৬টি দর্শনীয় চার ও ৬টি বিশাল ছক্কা।
অন্যদিকে, দলের ভরসা হয়ে থাকা বিরাট কোহলি আজ কিছুটা ধীরস্থির খেললেও ৩৮ বলে ৫০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। এটি ছিল আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা) তার ৬৫তম অর্ধশতক। ওপেনিং জুটিতে ১২০ রান তুলে দলকে এক বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন এই দুই তারকা। এরপর দৃশ্যপটে হাজির হন অধিনায়ক রজত পাটিদার। মাত্র ২০ বলে ৫৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে মুম্বাইয়ের বোলারদের কোণঠাসা করে ফেলেন তিনি। শেষ দিকে টিম ডেভিডের অপরাজিত ৩৪ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৪০ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে তোলে বেঙ্গালুরু।
২৪১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বাই। দলের প্রধান ব্যাটার রোহিত শর্মা আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ওপেনার রায়ান রিকেলটন ৩৭ রান করে আশা জাগালেও সুয়াশ শর্মার ঘূর্ণিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের মাঝপথে বেঙ্গালুরুর বোলার ক্রুনাল পান্ডিয়া অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। বিশেষ করে বিপজ্জনক সূর্যকুমার যাদবকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ম্যাচের পাল্লা বেঙ্গালুরুর দিকে ঝুঁকিয়ে দেন। শেষ দিকে শেরফানে রাদারফোর্ড ৩১ বলে ৭১ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে গ্যালারিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছিলেন। তবে যোগ্য সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা আর পূর্ণতা পায়নি। ৫ উইকেটে ২২২ রানেই থামতে হয় মুম্বাইকে।
এই জয়ের ফলে ৪ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে উঠে এল বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে মাত্র ১ জয় নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে ধুঁকছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যে মূলত ব্যাটারদের খেলা, ৪৬২ রানের এই ম্যাচটি তার বড় প্রমাণ। বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং গভীরতা আজ মুম্বাইয়ের বোলারদের অসহায় করে তুলেছিল। তবে মুম্বাইয়ের হারের বড় কারণ হতে পারে রোহিত শর্মার অকাল চোট এবং বোলিং ইউনিটের ধারাবাহিক ব্যর্থতা। এই জয় বেঙ্গালুরুকে শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।