চলতি বিশ্বকাপে রেফারি ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের সেরা তারকা ব্রিল এমবোলোকে বিতর্কিত লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় রেফারির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। তাঁর দাবি, তুলনামূলক অপরিচিত একটি নতুন নিয়মের ভুল প্রয়োগের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে তাঁদের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।
রোববার সকালে অনুষ্ঠিত টানটান উত্তেজনার ম্যাচটিতে দশম মিনিটে লিড নেয় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ড্যান এনদোঁয়ের গোলে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। এর পরপরই মাঠের নাটকীয়তার সূত্রপাত। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করেছেন—এমন অভিযোগে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান মাঠের রেফারি। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন। মাঠের পাশে থাকা মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারি নিশ্চিত হন, পারেদেসের কোনো স্পর্শ লাগার আগেই এমবোলো ডাইভ দিয়ে মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন।
এখানেই প্রয়োগ করা হয় চলতি বিশ্বকাপে নতুন চালু হওয়া ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ নিয়মটি। এই নিয়মের অধীনে পারেদেসের হলুদ কার্ডটি বাতিল করে উল্টো এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড পাওয়ায়, দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মুখে পড়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এমবোলোকে। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।
দশ জনের দল নিয়েও সুইজারল্যান্ড ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের চোখ ধাঁধানো গোল এবং যোগ করা সময়ে লাওতারো মার্তিনেজের লক্ষ্যভেদে ৩-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, “রেফারির একটি ভুল সিদ্ধান্তের চরম মাশুল দিতে হলো আমাদের। আমি নিজেই আগে এই নিয়মটি সম্পর্কে জানতাম না। অত্যন্ত সাধারণ একটি পরিস্থিতিতে হলুদ কার্ড তুলে নেওয়া হলো এবং ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হলো। এই একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল।”
ইয়াকিন আরও যোগ করেন, “রেফারি সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার চোখে ওটা অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনা ছিল। আমি জানি ফুটবল কর্তৃপক্ষ সবসময় তাঁদের রেফারির পক্ষই নেবেন, কিন্তু এই নিয়মটি আজ আমাদের একটি দুর্দান্ত ম্যাচ নষ্ট করে দিল। এভাবে বিদায় নেওয়াটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। আমার ছেলেরা আজ বীরের মতো লড়েছে এবং আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।”
দলের অধিনায়ক গ্রানিত জাকাও কোচের সুরেই কথা বলেছেন। হতাশ কণ্ঠে তিনি জানান, এমবোলোর লাল কার্ডটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম পুরো শান্ত ও হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া খুবই কঠিন।
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ প্রটোকল ব্যবহার করে কোনো কার্ড বাতিল করা হলো। তুলনামূলক অপরিচিত এই নিয়মে মাঠের রেফারি ভুলবশত কোনো খেলোয়াড়কে কার্ড দেখালে ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সংশোধন করার সুযোগ থাকে।