অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ৩-৩ গোলের ড্র (অমীমাংসিত ম্যাচ) দিয়ে অবশেষে নির্ধারিত হয়ে গেল চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের (নকআউট বা বিদায় পর্বের প্রথম ধাপ) বাকি থাকা শেষ দুটি দল। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের ফলাফলে গ্রুপ রানার্সআপ (গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল) হিসেবে অস্ট্রিয়া সরাসরি নকআউট পর্বে নিজেদের টিকিট কেটেছে। অন্যদিকে, গ্রুপের সেরা চার পয়েন্ট (অর্জিত নম্বর) নিয়ে অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ বত্রিশের মঞ্চে তাদের সঙ্গী হয়েছে লড়াকু আলজেরিয়া। এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটির অবসানের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সব জটিল সমীকরণের অবসান ঘটল।
বিশ্বকাপের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পায়। এবারের আসরে একটি করে জয় ও ড্রয়ের সুবাদে চার পয়েন্ট অর্জন করে রানার্সআপ দলগুলোর সঙ্গে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো, Sweden বা সুইডেন, ঘানা, ইকুয়েডর, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলজেরিয়া এবং প্যারাগুয়ে। নিজ নিজ গ্রুপে পয়েন্টের সুষম বিন্যাসের কারণে এই দলগুলো বেশ স্বস্তিতেই পরবর্তী পর্বে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে।
গ্রুপ পর্বের সমীকরণে আসল নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল ৩ পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে। মাত্র একটি জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় দলের শেষ স্থানটি দখল করেছে সেনেগাল। গ্রুপ পর্বে তাদের গোল ব্যবধান বা গোল ডিফারেন্স (পার্থক্য) ছিল প্লাস ২ (+২), যা তাদের ভাগ্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সেনেগালের সমান ৩ পয়েন্ট অর্জন করেও টুর্নামেন্ট থেকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছিটকে গেছে যথাক্রমে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং স্কটল্যান্ড। মূলত গোল ব্যবধানের তলানিতে থাকার কারণেই সেনেগালের পেছনে পড়ে যায় এই দলগুলো। যেখানে ইরানের গোল ব্যবধান ছিল শূন্য (০), দক্ষিণ কোরিয়ার মাইনাস ১ (-১) এবং স্কটল্যান্ডের মাইনাস ৩ (-৩)।
তবে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় চমক ও হতাশার গল্প তৈরি হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (বিশ্বসেরা) উরুগুয়ের বিদায়ের মধ্য দিয়ে। নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও ঐতিহ্যবাহী এই পরাশক্তি দলটির সংগ্রহ ছিল মাত্র ২ পয়েন্ট। ফলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই অত্যন্ত করুণভাবে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে লুইস সুয়ারেজের উত্তরসূরিদের। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের এমন অকাল বিদায় ফুটবলবিশ্বের অনেক সমর্থককেই স্তব্ধ করে দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বের এই তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে এখন শুরু হতে যাচ্ছে নকআউটের আসল মহাযুদ্ধ। যেখানে আর কোনো হিসাব-নিকাশের সুযোগ নেই; প্রতিটি ম্যাচই এখন দলগুলোর জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া শেষ মুহূর্তে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারলেও, শেষ বত্রিশের কঠিন চ্যালেঞ্জ তারা কীভাবে পার করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। গ্রুপ পর্ব থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নকআউট পর্বেও দলগুলো নিজেদের সেরা ছন্দ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর