পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে যেন অন্য এক লিটন দাসের দেখা মিলল। দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ও শৈল্পিক ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তার এই বীরোচিত ইনিংসের ওপর ভর করে লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ।
শনিবারের এই টেস্ট ম্যাচে শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না স্বাগতিকদের জন্য। দলীয় ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন কোণঠাসা। তবে সেখান থেকেই লিটন দাসের পাল্টা আক্রমণ শুরু। প্রথমে তাইজুল ইসলাম এবং পরে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন দারুণ কিছু জুটি। সর্বশেষ নবম উইকেটে শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে লিটন গড়েছেন আরও একটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি।
ইনিংসে লিটনের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। পাকিস্তানি বোলারদের একের পর এক বাউন্ডারিতে সীমানাছাড়া করেছেন তিনি। ১৩৫ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার পথে তিনি হাঁকিয়েছেন তেরোটি দৃষ্টিনন্দন চার ও দুটি বিশাল ছক্কা। খুররাম শাহজাদের বলে কাভার ড্রাইভের মাধ্যমে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরপরই লিটনকে এক ছক্কায় উড়িয়ে মারতে দেখা যায়, যা ছিল তার আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। টেস্ট ক্যারিয়ারের এই ষষ্ঠ সেঞ্চুরির তিনটিই এল পাকিস্তানের বিপক্ষে, যা প্রমাণ করে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই তিনি সবচেয়ে সাবলীল।
অবশ্য লিটনের এই ইনিংসটি ভাগ্যগুণেও টিকে ছিল। ৫২ রানে থাকাকালীন খুররাম শাহজাদের একটি ডেলিভারি তার গ্লাভস ছুঁয়ে গেলেও পাকিস্তান দল তা ধরতে পারেনি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা রিভিউ না নেওয়ায় জীবন পান লিটন। পরবর্তীতে ৬১তম ওভারে পাকিস্তানের এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপই হয়তো তাদের ভোগাবে দীর্ঘ সময়।
অন্যপ্রান্তে লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা। বিশেষ করে তাইজুলের সাথে ৬০ রানের জুটি এবং শরিফুলের সাথে অবিচ্ছিন্ন থেকে গড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি বাংলাদেশের সংগ্রহকে আড়াইশ রানের মাইলফলক পার করে দিয়েছে। শরিফুলও বেশ দায়িত্ব নিয়ে ক্রিজে টিকে থেকে লিটনকে স্ট্রাইক রোটেট (এক রান নিয়ে অপর প্রান্তে দেওয়া) করতে সাহায্য করছেন।
৭৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৭১ রান। লিটন দাস অপরাজিত আছেন ১২০ রান নিয়ে। তার ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ এখন সম্মানজনক সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের বোলাররা শুরু থেকে দারুণ চাপ তৈরি করলেও লিটনের অদম্য মনোবলের কাছে বারবার পরাস্ত হতে হয়েছে তাদের।
এই টেস্ট ম্যাচটি প্রমাণ করে যে, দলের দুঃসময়ে একজন ব্যাটার কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। লিটন দাসের ইনিংসটি কেবল রানের খাতা বাড়ায়নি, বরং সতীর্থদের মধ্যেও লড়াই করার সাহস জুগিয়েছে। তবে কেবল লিটনের ওপর নির্ভর করে ম্যাচ জেতা কঠিন। টেল-এন্ডারদের (শেষের ব্যাটারদের) সাথে জুটি বেঁধে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেওয়াটা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি শীর্ষ সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে গভীরভাবে ভাববার অবকাশ আছে। বাংলাদেশ কি পারবে এই সংগ্রহের ওপর ভর করে পাকিস্তানকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে? সেটিই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।