দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যেন রাজনৈতিক ব্যানার বা ফেস্টুন টানানো না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞান অর্জনের পবিত্র স্থান; সেখানে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার কোনো স্থান থাকবে না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জীবনের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শহর জুড়ে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ফেস্টুন সরানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো মহল শিক্ষাঙ্গনের ভেতরে রাজনৈতিক প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রেল ও যাতায়াত ব্যবস্থায় এমন আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারে। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজলভ্য করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, মেধা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে গঠিত নতুন প্রজন্মের মাধ্যমেই দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।
শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক মুক্ত রাখার ঘোষণাটি নিঃসন্দেহে একটি যুগোপকারী পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষ ও সচেতন অভিভাবক সমাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব ও ব্যানারের আধিক্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবে কার্যকর হয়, তবে তা শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর প্রয়োগ কতটা স্বচ্ছ হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।