ম্যাচের আগের দিনই সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ঠেকাতে তাঁরা আক্রমণাত্মক ফুটবলের (প্রেসিং কৌশল) কৌশল বেছে নেবেন। মাঠে তাঁর সেই ছক বেশ দারুণভাবেই কার্যকর হচ্ছিল। কিন্তু তারকা ফরোয়ার্ড ব্রেল এমবোলোর লাল কার্ড ম্যাচের সমস্ত গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চার (সেমিফাইনাল) নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে অনুষ্ঠিত এই কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের হয়ে গোল তিনটি করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাওতারো মার্তিনেজ। সুইজারল্যান্ডের পক্ষে একমাত্র গোলটি পরিশোধ করেন ড্যান এনদোঁয়ে। ম্যাচের ১১৩ মিনিট পর্যন্ত সমতা থাকলেও শেষ মুহূর্তের দুটি গোল আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।
খেলার শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে কড়া পাহাড়ায় আটকে রেখেছিলেন সুইস ডিফেন্ডাররা। তবে কঠিন এই পরিস্থিতিতেও আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, তারা কেবল এক জনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ম্যাচের দশম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় আলবিসেলেস্তেরা। মেসির চমৎকার এক কর্নার কিকে দারুণ হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। ১-০ গোলের এই ব্যবধান বজায় রেখেই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে তারা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭২তম মিনিটে সমতা ফেরায় দলটি। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে (গোলপোস্টের সামনের সীমানা) ঢুকে দারুণ গতিতে কোনাকুনি শট নেন ড্যান এনদোঁয়ে। বলটি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়ায়।
তবে এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। ৭৭তম মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ার ছলনা করে ডাইভ দিতে গিয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রেল এমবোলো। এর আগে ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাউল করার অপরাধে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। দশ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর সুইজারল্যান্ড সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে (পেনাল্টি শুটআউট) নিয়ে যাওয়া।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সুইসদের দুর্ভেদ্য ডিফেন্স (রক্ষণভাগ) ভাঙতে আর্জেন্টিনা ক্রস দেওয়ার কৌশল নিলেও বারবার তা ব্যর্থ হচ্ছিল। অবশেষে ১১৩তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে এক অনবদ্য কোনাকুনি উঁচু শটে জাল কাঁপান হুলিয়ান আলভারেজ। লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি সুইস গোলরক্ষক। এই দৃষ্টিনন্দন গোলটি আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধের জন্য সুইজারল্যান্ড অল-আউট আক্রমণে উঠলে তাদের রক্ষণভাগ দুর্বল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে এই সুযোগে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে আর্জেন্টিনার পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন লাওতারো মার্তিনেজ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বুধবার রাতে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা।