প্রথমার্ধে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নান্দনিক জোড়া গোলে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল সেলেসাওরা (ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ডাকনাম)। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ালেন মাতেউস কুনিয়া। আর ম্যাচের শেষভাগে সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে মাঠে ফিরলেন নেইমার। সব মিলিয়ে স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউট (পরবর্তী পর্ব) নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের বাধা অনায়াসে পেরোল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে স্কটিশ রক্ষণভাগের খেলোয়াড় স্কট ম্যাককেনার একটি বড় ভুলের সুযোগ কাজে লাগায় ব্রাজিল। ম্যাককেনার দুর্বল ব্যাকপাস (পেছনের দিকে বল পাঠানো) সহজেই কেড়ে নেন বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। তিনি বলটি বাড়িয়ে দেন পেনাল্টি বক্সের ভেতরে থাকা ভিনিসিয়াসকে। সুযোগ হাতছাড়া না করে দারুণ ফিনিশিংয়ে (বল জালে পাঠানো) রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (যোগ করা সময়) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়াস। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের চমৎকার ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলেও স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের অসতর্কতা চোখে পড়ার মতো ছিল। এবারের টুর্নামেন্টে এটি ভিনির চতুর্থ গোল।
ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে ব্রাজিলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি আসে। মাঝমাঠে স্কটিশ খেলোয়াড়দের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে কুনিয়ার দিকে বাড়ান গুইমারেস। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কুনিয়া।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ৭৬তম মিনিটে। গ্যালারির হাজারো দর্শকের মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। মাঠে নামার পর সতীর্থদের সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেন তিনি।
স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকার ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। স্কটিশদের বেশ কয়েকটি আক্রমণ দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করে নিজের জাল সুরক্ষিত রাখেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে ব্রাজিল প্রতিপক্ষের গোল অভিমুখে ২১টি শট নেয়, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের ১৪টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে থাকলেও আলিসনের দৃঢ়তায় কোনো গোল পায়নি তারা।
৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে 'সি' গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরবর্তী পর্বে পা রাখল ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট পেয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনো সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার ক্ষীণ সুযোগ রয়েছে। আর সবকটি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে হাইতি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নকআউটের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে গ্রুপ 'এফ'-এর রানার্সআপ দলের, যেখানে জাপানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।