রাজধানীর সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র বেইলি রোডে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে নাটক উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় বেইলি রোডের নাটকপাড়ায় শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষ নাটক ‘কবি চিতাবাঘ’ দেখতে যান তিনি। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এমন অনুরাগ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক ঘরোয়া অথচ আনন্দঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সপরিবারে নাটকপাড়ায় উপস্থিত হন। এদিন তিনি শিশুতোষ নাটক ‘কবি চিতাবাঘ’ উপভোগ করেন। দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার মাঝেও শিল্পের সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং দেশীয় নাট্যচর্চাকে উৎসাহিত করতে তার এই উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। নাটকের প্রদর্শনী চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে বেশ কয়েকবার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গেছে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল তিনি তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। সেদিন তারা বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনী (সায়েন্স ফিকশন) ঘরানার চলচ্চিত্র ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ উপভোগ করেন। পারিবারিক আবহে কাটানো সেই মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ আলোচিত হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়মিত নাট্যশালা বা সিনেমা হলে যাতায়াত দেশের বিনোদন জগতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে শিশুতোষ নাটকের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী নিজে সপরিবারে এটি দেখতে আসায় সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরাও বেশ উৎসাহিত বোধ করছেন। বেইলি রোডের নাটকপাড়া হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এই এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নাটক দেখা শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নাট্যকর্মীদের সাথে সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় করেন এবং দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে শিশুদের জন্য আরও মানসম্মত কাজ করার আহ্বান জানান। সরকারি দায়িত্ব পালনের কঠিন রুটিনের ফাঁকে শিল্পের প্রতি এমন অনুরাগ তার ব্যক্তিত্বের এক মানবিক ও সংস্কৃতিমনা দিক ফুটিয়ে তোলে।
দেশীয় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা এবং বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি এমন ব্যক্তিগত আগ্রহও অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য মানসম্মত নাটক ও চলচ্চিত্রের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই নাটক দেখার মধ্য দিয়ে অভিভাবক মহলে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে যে, সন্তানদের সুস্থ বিনোদনের দিকে ধাবিত করা কতটা প্রয়োজন। আমাদের নিজস্ব গল্পের নাটকগুলো যখন এভাবে প্রশংসিত হয়, তখন নাট্যকর্মীরাও নতুন সৃষ্টির প্রেরণা পান।
এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক সময় কাটানোর চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, কবি চিতাবাঘ, নাটকপাড়া, বেইলি রোড, শিশুতোষ নাটক, সংস্কৃতি, বাংলাদেশ।