দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার উদ্দেশ্য নিয়ে আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে আগত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা এই মিলনমেলায় অংশ নিয়েছেন। সরকারি স্বাস্থ্য সেবার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র এবং সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অঙ্গীকার। সম্মেলনে উপস্থিত কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্য সেবার চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার বিষয়েও সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময় কেটেছে হজযাত্রীদের বিদায় জানাতে। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি রাজধানীর আশকোনা এলাকায় অবস্থিত হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর ঘরের মেহমানদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খাবারের মান ও আবাসন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। হজযাত্রীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
হজ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী রাত সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। নিজের ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া চেয়ে তিনি যাত্রীদের বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মতৎপরতা দেশের সাধারণ মানুষের সেবা এবং ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের পরিচয় দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
একটি দেশের উন্নতির প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে তার নাগরিকদের সুস্বাস্থ্যের ওপর। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই সম্মেলন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলের স্বাস্থ্য সেবায় নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের বিদায় জানানো এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় উভয় দায়িত্ব পালনে সমান গুরুত্ব প্রদর্শন করেছেন। প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সেবা উন্নত হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।