ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এবারের মনোনয়নে অভিজ্ঞদের চেয়ে নবীন ও রাজপথের সক্রিয় নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত তালিকায় ২৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে বাদ পড়েছেন দলের ভেতর ও বাইরে আলোচনায় থাকা বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী।
গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আসন বণ্টনের সমীকরণ অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি আসন পেতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে এসব মনোনয়ন দাখিল করার কথা রয়েছে।
মনোনয়নে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১০ জন এবারও দলের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। অভিজ্ঞতার বিচারে সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, এবং নিলুফার চৌধুরী মনির মতো নেত্রীদের আবারও মনোনীত করা হয়েছে। তবে তালিকার বড় অংশই চমক হিসেবে এসেছে। প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি, শাকিলা ফারজানা এবং বীথিকা বিনতে হোসাইন। বিশেষ করে ছাত্রদলের তরুণ নেত্রী মানসুরা আক্তার ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলির মনোনয়নকে দলের নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিতর্ক ও বিচিত্র পটভূমি মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর) এবং অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাকে নিয়ে দলের ভেতরেই কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সুবর্ণা ঠাকুর পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গত বছর বিএনপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে, পার্বত্য অঞ্চল থেকে মনোনীত মাধবী মারমার রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া আলোচিত উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হক এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে আন্না মিনজ মনোনয়ন তালিকায় স্থান পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।
বাদ পড়লেন যারা সবচেয়ে বড় চমক ছিল পরিচিত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মুখগুলোর অনুপস্থিতি। সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা এবং রিজিয়া পারভীন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও তাদের কাউকেই চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। মনোনয়ন না পেয়ে শিল্পী কনকচাঁপা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন যে, আল্লাহ নিশ্চয়ই এর মধ্যে মঙ্গল রেখেছেন। এছাড়া আফরোজা আব্বাস, আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী নামগুলো এবার বাদ পড়েছে।
বিএনপির এই মনোনয়ন তালিকায় নবীনদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, দলটি ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন ও তরুণ নেতৃত্বকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। তবে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিচিত নেতাদের বাদ পড়া এবং অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের ঠাঁই পাওয়া দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়ন করা দলের জন্য ইতিবাচক হলেও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রাখা সংসদীয় রাজনীতির জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।