জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার শুরু করছে বিএনপি। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নয় শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী নেত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে নামছেন কয়েক শ নারী নেত্রী। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করবে দলের নীতিনির্ধারক পর্ষদ বা পার্লামেন্টারিয়ান বোর্ড (সংসদীয় বোর্ড)। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারের জন্য বিভাগভিত্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শুরু হবে। এতে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নেবেন। পরবর্তী ধাপে আগামীকাল শনিবার একই সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে।
সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলে গত ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির টিকিটে প্রার্থী হতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। মোট ১ হাজার ১৯৪ জন নারী নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে যাবতীয় তথ্য পূরণ করে শেষ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন ৯০৭ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য ধরা হয়েছিল দুই হাজার টাকা এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থী ফরম জমা দেওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা করে জামানত বা নিরাপত্তা অর্থ প্রদান করেছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের জন্য ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার চলাকালীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে স্ব-স্ব বিভাগের তালিকায় উপস্থিত থেকে বোর্ডে অংশ নেবেন। যোগ্যদের মনোনয়ন প্রদানের মাধ্যমেই সংসদে নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে চায় দলটি।
সংরক্ষিত নারী আসনে নয় শতাধিক প্রার্থীর আবেদন প্রমাণ করে যে, জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও আকাঙ্ক্ষা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্ত কয়েকজনকে বেছে নেওয়া দলের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রীরা প্রাধান্য পান নাকি নতুন ও পেশাজীবী নারীরা সুযোগ পান, সেটিই এখন দেখার বিষয়। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমেই কেবল দক্ষ সংসদীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করা সম্ভব।