আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে নিজেদের কোটা থেকে দুটি আসন শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে এবং জোটের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দলটির এই সিদ্ধান্তে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি (এনসিপি) এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রথমবারের মতো সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাচ্ছে।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলো একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করে। সেই হিসেবে ৭৭ আসন পাওয়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে ১১টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শরিকদের জন্য দুটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নীতিগতভাবে বর্তমান সংসদ সদস্যদের স্ত্রী বা কন্যাদের মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কঠোর নীতির কারণে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের স্ত্রী আমেনা বেগম এবং নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা আখতার চৌধুরী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকলেও মনোনয়ন পাচ্ছেন না। তবে সংসদ সদস্য নন এমন নেতাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বাধা থাকছে না। জামায়াতের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, মারজিয়া বেগম এবং আইনজীবী সাবিকুন নাহার মুন্নিসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেত্রী।
শরিক দলগুলোর মধ্যে এনসিপি-কে একটি বাড়তি আসন দেওয়া হচ্ছে। এর আগে নির্বাচনী জোটের খাতিরে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে এনসিপি-র মাহমুদা আলম মিতু প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। সেই ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে তাকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া ঢাকা-১৯ আসন থেকে নির্বাচন করা দিলশানা পারুল এবং সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরা শারমিনের নামও এনসিপির তালিকায় আলোচনায় রয়েছে। তবে সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২৫ বছর বিএনপির সাথে থাকার পর জামায়াতের জোটে আসা জাগপাকেও একটি আসন ছাড়ছে জামায়াত। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের কন্যা এবং বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এই সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদে যেতে পারেন। পঞ্চগড় এলাকায় জোটের স্বার্থে জাগপার নেতারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় এই সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী ২১ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। ৩০০ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ভোটে এই নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আসন বণ্টন পূর্বনির্ধারিত থাকায় মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই চূড়ান্ত হয়ে যাবে কারা হতে যাচ্ছেন সংরক্ষিত ৫০ আসনের সংসদ সদস্য। জামায়াত জোটের এই ১৩টি আসনের বাইরে বিএনপি জোট একাই ৩৬টি নারী আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জোটের রাজনীতিতে বড় দলগুলোর ত্যাগ স্বীকার ছোট শরিকদের জন্য যেমন অক্সিজেন স্বরূপ, তেমনি তা জোটের ঐক্যকেও সুসংহত করে। জামায়াতের এই আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে শরিকদের সাথে তাদের আস্থার সম্পর্ক মজবুত করবে। তবে স্বজনপ্রীতি এড়িয়ে যোগ্য ও সংগ্রামী নারী নেত্রীদের সংসদে পাঠানোই এখন দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যাতে তারা সংসদে সাধারণ মানুষের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেন।