সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী পাকিস্তানের টপ অর্ডার ব্যাটারদের সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান তুলেছে পাকিস্তান।
প্রথম দিনেই ২৭৮ রানে অলআউট হয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের ওপর ফিরিয়ে দিয়েছেন টাইগার বোলাররা। আগের দিনের বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান দিনের প্রথম সেশনেই চার উইকেট হারিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছে।
সকালের শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনের ওপর চড়াও হন ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ২২ রানে ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে সাজঘরে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু (সাফল্যসূচক উইকেট) এনে দেন তিনি। এর ঠিক পরের ওভারেই আজান আওয়াইসকে ফেরান তাসকিন। মাত্র ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা যখন ধুঁকছিল, তখন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ।
তবে তাদের সেই লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। দলীয় ৬১ রানে শান মাসুদকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি। এরপর পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়িয়ে দ্রুতই সৌদ শাকিলকে আউট করেন মিরাজ। এতে মাত্র ৭৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত পাকিস্তান সংগ্রহ করেছে ৯৬ রান। বাবর আজম ৩৭ ও সালমান আলী আগা ৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের রানের তুলনায় তারা এখনো ১৮২ রানে পিছিয়ে আছে।
দুই ম্যাচ সিরিজের এটি দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিলেটের এই ম্যাচে জয় কিংবা ড্র করতে পারলেই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় দিনের বাকি অংশটুকু টাইগারদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে দেওয়ার পর এখন বাবর আজমকে দ্রুত আউট করতে পারলেই চালকের আসনে বসে পড়বে স্বাগতিকরা।
খেলার দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ যেভাবে লড়াইয়ে ফিরেছে, তা পুরো দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন। বল হাতে পেসার ও স্পিনারদের সমন্বিত পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ঘরের মাঠে এখন কতটা আত্মবিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, বড় কোনো জুটি গড়তে না দিয়ে পাকিস্তান দলকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারে কি না। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন বাবর আজমের উইকেটের দিকে, কারণ তিনিই পাকিস্তানের শেষ ভরসা।