চরম উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ঠাসা এক ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মরক্কো। দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দল হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে আশরাফ হাকিমিরা। এই রোমাঞ্চকর জয়ে 'সি' গ্রুপের রানার্স-আপ (দ্বিতীয় দল) হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট (পরবর্তী পর্ব) নিশ্চিত করল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রথাগত শক্তির সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মরক্কোকে চেপে ধরেছিল হাইতি। ম্যাচের প্রথমার্ধে মরক্কোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের একটি আত্মঘাতী ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রথম লিড (এগিয়ে যাওয়া) পায় হাইতি। মরক্কো গোল পরিশোধ করে সমতায় ফিরলেও ক্যারিবীয়দের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সেবাস্তিয়ান মিগনের দল। রক্ষণভাগের ফাঁক গলে দ্রুতই মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে দ্বিতীয়বারের মতো লিড নেয় হাইতি। ফলে প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়ে মরক্কো। তবে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে দারুণ এক আক্রমণে সমতায় ফেরে মরক্কো। ২-২ গোলের সমতা নিয়েই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মরক্কোর কোচ মাঠের রণকৌশলে পরিবর্তন আনেন। মাঠের খেলায় গতি বাড়াতে একের পর এক বদলি খেলোয়াড় নামানো হয়। কোচের এই চালের সুফল পেতেও সময় লাগেনি। মরক্কোর বদলি খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত আক্রমণের মুখে হাইতির রক্ষণভাগ mountaineering কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আক্রমণভাগের গতি বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে মরক্কো।
অবশেষে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে গোলের দেখা পায় মরক্কো। সুফিয়ান রাহিমির এক চমৎকার শটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো ৩-২ গোলের লিড নেয় তারা। রাহিমির এই দর্শনীয় গোলটি পুরো মরক্কো দলকে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে দেয় এবং জয়ের আত্মবিশ্বাস জোগায়।
খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মরক্কোর পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন গেসিম ইয়াসিন।
তবে বলটি গোললাইন অতিক্রম করেছিল কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (প্রযুক্তির সাহায্যে রেফারিকে সহায়তার ব্যবস্থা) পরীক্ষা করার পর মূল রেফারি এটিকে বৈধ গোল হিসেবে ঘোষণা করেন। ফলে ৪-২ ব্যবধানে মরক্কোর জয় নিশ্চিত হয়।
এদিনের ম্যাচে মরক্কোর জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। নিজে একটি চমৎকার গোল করার পাশাপাশি অন্য একটি গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেন তিনি। পুরো ম্যাচ জুড়েই হাইতির রক্ষণভাগে ভীতি ছড়িয়েছেন এই তারকা। ম্যাচের শেষ দিকে হাইতি ব্যবধান কমানোর আরেকটি জোরদার চেষ্টা করলেও মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো তা নস্যাৎ করে দেন।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল মরক্কো। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে বিদায় নিলেও নিজেদের সাহসী খেলার জন্য প্রশংসায় ভাসছে হাইতি। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত মরক্কোকে কড়া টক্কর দিয়ে এক বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই তারা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল।