Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে মরণব্যাধি টিউমার; ক্রিকেটের জন্য জীবন বাজি ধরেছিলেন যুবরাজ

BNJK
29 August 2026, 01:54 AM পড়তে ১ মিনিট
হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে মরণব্যাধি টিউমার; ক্রিকেটের জন্য জীবন বাজি ধরেছিলেন যুবরাজ

ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের জীবন যেন কোনো এক হার না মানা যোদ্ধার গল্প। ক্যারিয়ারের স্বর্ণশিখরে থাকার সময় মরণব্যাধি ক্যানসারের আক্রমণ এবং চিকিৎসকের বেঁধে দেওয়া মাত্র ছয় মাসের আয়ু নিয়েও কীভাবে তিনি লড়াই করেছিলেন, সেই লোমহর্ষক কাহিনি সম্প্রতি জনসমক্ষে এনেছেন এই তারকা।

২০০৭ সালের কুড়ি ওভারের বিশ্ব আসর এবং ২০১১ সালের একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক যুবরাজ সিং। বিশেষ করে ২০১১ বিশ্বকাপে ‘সেরা খেলোয়াড়’ (টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর ক্রিকেটার) হওয়ার গৌরব অর্জনের পাশাপাশি তিনি লড়াই করছিলেন অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার সাথে। সম্প্রতি সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের এক বেতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে যুবরাজ তার সেই দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।

২০১১ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যখন যুবরাজ শারীরিক পরীক্ষা করান, তখন ফলাফল দেখে চিকিৎসকরাও স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। তৎকালীন অভিজ্ঞ চিকিৎসক নিতেশ রোহাতগি তাকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছিলেন, “তোমার হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় একটি বড় টিউমার বাসা বেঁধেছে। তুমি যদি এই অবস্থায় খেলা চালিয়ে যাও, তবে যেকোনো মুহূর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারো। আর যদি কেমোথেরাপি (ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহৃত বিশেষ রাসায়নিক চিকিৎসা) না নাও, তবে তোমার হাতে সময় আছে বড়জোর তিন থেকে ছয় মাস।”

যুবরাজ জানান, সেই সময়টি ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষার পর সৌরভ গাঙ্গুলি অবসর নেওয়ায় টেস্ট দলে তার জায়গা পাকাপোক্ত করার সুযোগ এসেছিল। হার না মানা যুবরাজ তখন বলেছিলেন, “আমি মরে গেলেও খেলব, কারণ ওই জায়গাটি আমার চাই।” কিন্তু ক্রমশ ভেঙে পড়া শরীর তাকে বাস্তবতা মানতে বাধ্য করে। ক্রিকেটের মায়া ছেড়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাড়ি জমাতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে।

সেখানে ডা. লরেন্স আইনহর্নের অধীনে চিকিৎসা চলাকালীন যুবরাজ মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। তাকে বলা হয়েছিল, তিনি হয়তো আর কখনোই ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামতে পারবেন না। যুবরাজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি নিজেকে প্রশ্ন করতাম, ক্রিকেট না খেললে আমি কে? আমি তো কিছুই না।” মানসিকভাবে নিজেকে চাঙ্গা রাখতে তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে নিজের পুরনো ম্যাচের ভিডিও দেখতেন। সেই কঠিন সময়ে অনিল কুম্বলে এবং শচীন টেন্ডুলকারের মতো তারকারা তাকে সাহস জোগাতে ছুটে গিয়েছিলেন। কুম্বলে তাকে খেলা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অবশেষে প্রায় এক বছরের দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা শেষে ক্যানসারকে জয় করে আবারও ২২ গজের ময়দানে ফিরে আসেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার এই ফিরে আসা কেবল একটি ব্যক্তিগত জয় ছিল না, বরং সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে তা হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

 যুবরাজ সিংয়ের এই জীবনকাহিনি আমাদের শেখায় যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর লক্ষ্য অর্জনের একাগ্রতা থাকলে মৃত্যুর দুয়ার থেকেও ফিরে আসা সম্ভব। একজন খেলোয়াড় কেবল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বরং জীবনের চরম সংকটে তার লড়াই করার মানসিকতা দিয়েই কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। যুবরাজের এই সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কেবল ভালো খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং একজন সত্যিকারের লড়াকু মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করবে।


 

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
ক্রিকেট

হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে মরণব্যাধি টিউমার; ক্রিকেটের জন্য জীবন বাজি ধরেছিলেন যুবরাজ

B
BNJK | 09 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার