ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিসের হতাশা, এরপর মাঠজুড়ে আক্রমণের আধিপত্য বজায় রেখেও শেষ রক্ষা হলো না ব্রাজিলের। শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আর্লিং হলান্ডের অতিমানবীয় নৈপুণ্যে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব সিক্সটিনের (১৬ দলের পর্ব) জমজমাট ম্যাচে লাতিন পরাশক্তিদের ২-১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে নরওয়েজিয়ানরা। ম্যাচের শেষ ভাগে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে নরওয়ের এই স্মরণীয় জয়ের প্রধান নায়ক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার (আক্রমণভাগের খেলোয়াড়) আর্লিং হলান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে। ৩য় মিনিটে নরওয়ের পাত্রিক বার্গ জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এর ঠিক সাত মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। ডি-বক্সে মাতেউস কুনাকে ফাউল করা হলে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তির সহায়তায় পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। তবে ব্রুনো গিমারাইসের দুর্বল নিচু স্পট কিকটি ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন নরওয়ের দুর্দান্ত গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলাদ। পেনাল্টি মিসের এই ধাক্কা পুরো ম্যাচে ব্রাজিলকে ভুগিয়েছে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুই দলই দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েছিল, তবে আলিসন ও নিলাদের দক্ষতায় গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে কার্লো আনচেলত্তির দল। ৫৮ মিনিটে বদলি নামা তরুণ ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক মাঠে নামার পরের মিনিটেই ভিনিসিয়াসের থ্রু বল (ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দেওয়া পাস) ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ৬৭ মিনিটে ম্যাচে প্রাণ ফেরাতে নেইমার ও দানিলোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমার অনেক চেষ্টা করলেও দলের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেননি।
৭৯ মিনিটে ডেডলক (অচলবস্থা) ভাঙেন হলান্ড। আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপের ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেন এই নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এটি তাঁর টানা ১৪তম গোল। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে (৯০ মিনিট) ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক মাটিঘেঁষা জোরালো শটে আলিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হলান্ড। এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির সমান ৭ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের (সেরা গোলদাতার পুরস্কার) দৌড়ে শীর্ষস্থান দখল করলেন তিনি।
যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে নেইমার ব্যবধান ২-১ করলেও তা কেবল সান্ত্বনাই দিয়েছে। এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপের দেশগুলোর বিপক্ষে টানা সাতটি ম্যাচ হারল ব্রাজিল। পাশাপাশি নরওয়ের বিপক্ষে খেলা পাঁচ ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যার মধ্যে তিনটিতেই তারা হারের স্বাদ পেয়েছে।