শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর রক্তস্নাত জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ডাক দিয়েছেন তার ছোট ভাই মীর স্নিগ্ধ। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট ত্যাগ করে স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় মীর স্নিগ্ধ এই মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, দেশের তরুণ সমাজ বর্তমানে প্রচলিত ও পুরোনো ধাঁচের রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ এবং তারা একটি সম্পূর্ণ নতুন ও স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে।
মীর স্নিগ্ধ তার লেখনীতে উল্লেখ করেন, এনসিপিকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি কোনো জোটের ছায়াতলে থেকে যাবে নাকি নিজেদের একটি শক্তিশালী জাতীয় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তিনি বলেন, “সামান্তা শারমিনের মতো আমিও মনে করি, জাতীয় নাগরিক পার্টির এখনই এই জোট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। কারণটা অত্যন্ত স্পষ্ট। যদি এই দলটি নিজেকে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভাবতে না পারে, তবে পৃথিবীর আর কেউ তাদের বড় দল হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।”
জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের আদর্শ এবং অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে স্নিগ্ধ আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য সাময়িক কিছু প্রতিকূলতা মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তার মতে, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা এখন আর পুরোনো রাজনীতির মারপ্যাঁচে আটকা পড়তে চায় না। তারা চায় এমন একটি দল যা কোনো মহাজোট বা জোটের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এনসিপি যদি এখনই জোট থেকে বেরিয়ে না আসে, তবে সাধারণ মানুষের মনে এমন একটি স্থায়ী ধারণা তৈরি হবে যে তাদের নিজস্ব কোনো শক্তি বা স্বতন্ত্রতা নেই। একবার এই ধারণা জনমনে গেঁথে গেলে ভবিষ্যতে একক দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
মীর স্নিগ্ধের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য এটিই সঠিক সময়। কারণ অনেক প্রভাবশালী এবং প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব বর্তমানে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী বিকল্পের অপেক্ষায় আছেন। এনসিপি যদি জোটের বাইরে এসে নিজের স্বাধীন অবস্থান ঘোষণা করতে পারে, তবে দেশের অনেক সম্ভাবনাময় নেতা এই পতাকাতলে সমবেত হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যা হয়তো বর্তমান এনসিপি নেতৃত্ব কল্পনাও করতে পারছে না।
জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তরুণ প্রজন্মের এই নতুন আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের দাবিকে ধারণ করেই জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্ম হয়েছিল। ফলে দলটির প্রতিটি পদক্ষেপ এখন জনগণের বিশেষ করে তরুণ সমাজের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। স্নিগ্ধের এই বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, এনসিপি কি জোটের রাজনীতির বৃত্তে আটকে থাকবে নাকি নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে একলাই লড়াইয়ের ময়দানে নামবে।