Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

‘৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ সম্ভব নয়’, সংসদে সোচ্চার রুমিন ফারহানা

BNJK
29 August 2026, 02:01 AM পড়তে ১ মিনিট
‘৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ সম্ভব নয়’, সংসদে সোচ্চার রুমিন ফারহানা

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারীকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অগ্রযাত্রা থেকে দূরে সরিয়ে রেখে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক আবেগঘন ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যে তিনি নারী অধিকার এবং গণ-অভ্যুত্থানে তাদের ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ৫২ শতাংশ মানুষকে (নারী সমাজ) উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার স্বপ্ন কোনোদিনও বাস্তব রূপ পাবে না।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী সেই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থেকে নারীরা সাহসের সাথে লড়াই করেছেন। রাজপথে একঝাঁক নতুন প্রজন্মের তরুণীর মুখ আমরা দেখেছিলাম, যারা বুক পেতে দিয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই অভ্যুত্থানের এক বছর পার না হতেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনে জীবন বাজি রাখা সেই অকুতোভয় নারীরা আজ কোথায় হারিয়ে গেলেন? কেন তাদের গুরুত্ব আজ কমে গেল?

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সমাজের দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “অস্থির ও সংকটের সময়ে নারীর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিস্থিতি সামলানো যায় না; অথচ পরিস্থিতি যখন শান্ত হয়, সবকিছু যখন ঠিকঠাক হতে শুরু করে, তখনই সেই নারী হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপহাস বা ট্রলের বস্তু।” নারীর এই অবমূল্যায়ন একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অশনিসংকেত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন যে, গণ-অভ্যুত্থান কোনো বায়বীয় বা অলীক কল্পনা ছিল না। এটি ছিল মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আজও যদি আমরা জনপদের দেয়ালের দিকে তাকাই, তবে সেখানে তরুণ প্রজন্মের অংকিত গ্রাফিতিগুলোতে তাদের স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতে পাব। সেই দেয়ালে তারা লিখে গেছে তাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের কথা।

তিনি জোরালোভাবে বলেন, এই লড়াইটা কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের সাধারণ কোনো আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল ধর্ম, বর্ণ বা লৈঙ্গিক পরিচয়ের (নারী-পুরুষ ভেদাভেদ) ভিত্তিতে কাউকে আলাদা বা ‘অপর’ হিসেবে গণ্য না করার লড়াই। সকলকে সাথে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

 ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এই বক্তব্য বর্তমান বাংলাদেশের একটি কঠিন বাস্তবতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। একটি সফল বিপ্লবের পর যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা ওঠে, তখন সমাজের একটি বৃহৎ অংশকে অবহেলা করা মানেই হলো সেই বিপ্লবের মূল চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা। নারী অধিকার কেবল কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার। যে সমাজ তার অর্ধাঙ্গকে সম্মান দিতে জানে না, সেই সমাজের প্রকৃত মুক্তি এখনো অনেক দূরে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
রাজনীতি

‘৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ সম্ভব নয়’, সংসদে সোচ্চার রুমিন ফারহানা

B
BNJK | 08 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার