মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি হিসেবে স্বাধীন পরিচয় পেলেও গত ৫৬ বছরে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার একটি যুব সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরেন।
রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন বিষয়ক সংগঠন ‘জেসিআই কার্নিভাল’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন এলজিআরডি (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্বীকৃতি পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু বিগত ৫৬ বছরে আমরা যতটুকু ভালো করতে পারতাম, ততটুকু পারিনি।”
মন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতির সূচকগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে জানান, মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (একটি দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য) এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, দেশে এখনো প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শুধু তাই নয়, একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো মানসম্মত শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে।
তবে নেতিবাচক প্রসঙ্গের পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্রও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে রয়েছে, যা একটি বড় ধরনের অর্জন। এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মস্পৃহার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি লক্ষ্য করেছেন, দেশের একদল মেধাবী তরুণ এখন অন্যের অধীনে চাকরির আশায় বসে না থেকে স্বউদ্যোগে ব্যবসা এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলছেন। তরুণদের এই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার মানসিকতাকে তিনি দেশের জন্য একটি বড় ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে জেসিআই-এর মতো সংগঠনের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বড় কিছু অর্জন করতে হলে আগে স্বপ্ন দেখতে হয়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনিও একদা একটি আধুনিক বাংলাদেশের নতুন স্বপ্ন দেখেছিলেন। মন্ত্রী নিজেকে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে দাবি করে বলেন, “আমি স্বপ্ন দেখি যে আমরা পারব। এই দেশটা আমাদের, তাই এর উন্নয়ন আমাদেরই করতে হবে। বাইরের কেউ এসে আমাদের ভাগ্য বদলে দিয়ে যাবে না।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য বাংলাদেশের ৫৬ বছরের পথচলার এক নির্মোহ বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। একদিকে যেমন দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাবের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান, অন্যদিকে তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি তরুণদের এই সৃজনশীলতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে দাঁড়াতে হলে মন্ত্রীর উচ্চারিত সেই ‘স্বপ্নে’র বাস্তবায়ন আজ বড্ড জরুরি।