জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিজেদের একক মতাদর্শ চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সমুন্নত রাখতে না পারলে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের পথ সুগম হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী তার বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "আমাদের এই স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যেন তাদের নিজস্ব চিন্তা বা মত চাপিয়ে দিয়ে এই ব্যবস্থাকে কলুষিত করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, গণতন্ত্রকে যদি একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো না যায়, তবে এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে এই নীতিনির্ধারক বলেন, নিজেদের মধ্যে ফাটল বা অনৈক্য থাকলে বাইরের আধিপত্যবাদী (অন্য দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী) শক্তির জন্য দেশীয় রাজনীতিতে নাক গলানো সহজ হয়ে পড়ে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো বিদেশি শক্তির গ্রাস থেকে বাঁচতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে দূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছেন। তার সুদৃঢ় নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সম্মুখপানে এগিয়ে যাবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের প্রকৃত ইতিহাস চর্চা এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আধিপত্যবাদের প্রশ্ন ওঠে, তখন তা কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাদের এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চায়, তখন তা গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদকে বাধাগ্রস্ত করে। রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, পর্দার আড়ালে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পরমতসহিষ্ণুতা এবং সুশাসনের ওপর নির্ভরশীল। যদি অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাইরের শক্তির প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। নাগরিকদের সচেতন অবস্থানই হতে পারে এই সংকটের একমাত্র সমাধান।