আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছর ধরে যে অপরাজনীতি ও আধিপত্যবাদের চর্চা করেছে, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীও সেই একই পথে পা বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম। শুক্রবার সকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তার মতে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে আদর্শিক সংঘাত এখন নতুন রূপ নিচ্ছে।
আবদুস সালাম বলেন, বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে, এখন জামায়াতও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যেমন হাজার কোটি টাকা খরচ করে দেশের জনপ্রিয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে, আরেকটি শক্তিও (জামায়াত) এখন একইভাবে পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় রয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধেই এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তব্য চলাকালে তিনি জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীত বাজার সময় নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এদের অন্তরে এখনো পাকিস্তান প্রীতি রয়ে গেছে। তিনি আরও যোগ করেন, একদিকে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, অন্যদিকে জামায়াত চেয়েছিল পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে। ফলে দুই দলেরই মানসিকতা পাকিস্তানের স্বপ্নঘেরা।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসে। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন দুর্নীতি বন্ধ হলে অর্থ কোনো সমস্যা নয়, আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই একই স্বচ্ছতার পথে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
আবদুস সালাম বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, রাজনীতি দিয়েই যেমন আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করা হয়েছে, জামায়াতের যেকোনো অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডকেও রাজনীতি দিয়েই প্রতিহত করা হবে। তিনি মনে করেন, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো দেশকে গ্রাস করতে পারেনি। জনগণের ঐক্যই হবে সামনের দিনের বড় শক্তি।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যখন একটি দল অন্যটির বিরুদ্ধে একই পথে হাঁটার অভিযোগ তোলে, তখন তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। রাজনীতির এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। দেশের মানুষ কি শেষ পর্যন্ত সুস্থ ধারার রাজনীতির দেখা পাবে, নাকি অতীতের ছায়াতেই ঘুরপাক খাবে আমাদের ভবিষ্যৎ?