সরকারের আইন কর্মকর্তা বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির নিকট তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দেশের উচ্চ আদালতে সরকারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নিয়োজিত অন্যতম আইন কর্মকর্তা মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন তার দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চাইলেন। গত বছরের ২৮ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতির আদেশে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (সরকারের আইনি সহায়তাকারী কর্মকর্তা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ প্রায় আট মাস তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রেরিত পদত্যাগপত্রে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন উল্লেখ করেন যে, নিয়োগের পর থেকে তিনি তার ওপর অর্পিত যাবতীয় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছেন। তবে বর্তমানে তার কিছু একান্ত ব্যক্তিগত কারণ তৈরি হয়েছে, যার ফলে এই পদে থেকে অর্পিত দায়িত্ব অব্যাহত রাখা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এই বাস্তবতায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইন অঙ্গনে পরিচিত মুখ মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন কেবল একজন আইন কর্মকর্তাই নন, তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয়। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পদত্যাগপত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উচ্চ আদালতের একজন গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয় নয়। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকেন, তখন তার পদত্যাগের সময় ও কারণ নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনেক সময় জরুরি হয়ে পড়ে। তবে বিচার বিভাগের গতিশীলতা রক্ষায় দ্রুততম সময়ে শূন্য পদে যোগ্য উত্তরসূরি নিয়োগ দেওয়া হবে বলেই সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা আশা করেন।