Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

গণভোটের দাবিতে শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় জোট

Roksana
29 August 2026, 01:57 AM পড়তে ১ মিনিট
গণভোটের দাবিতে শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় জোট

দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে আগামী শনিবার রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা।


রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে জোটের লিঁয়াজো কমিটির (যোগাযোগ ও সমন্বয় কমিটি) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই নতুন কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাসনের মতোই ফ্যাসিবাদী (একনায়কতান্ত্রিক ও দমনমূলক) পথে হাঁটছে। তিনি মনে করেন, সংসদ পরিচালনায় সরকারি দল যে অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বের করার পরিকল্পনাও রয়েছে জোটের। রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভের মাধ্যমে তারা সরকারকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চায়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং এটি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই।

হামিদুর রহমান আজাদ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সরকার এখন জনদাবি উপেক্ষা করে কেবল নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে। দেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি, কিন্তু সরকার সেই সংস্কারের পথে না গিয়ে সংবিধানের কিছু দায়সারা সংশোধনী এনে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার যদি জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় মেনে না নেয় এবং সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ করে, তবে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই।

জোটের অভ্যন্তরে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে আগামী ৭ এপ্রিল একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত বৈঠকে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সেই বৈঠক থেকেই পরবর্তী আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জোটের নেতারা তৃণমূল পর্যায়েও নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা একযোগে বলেন, দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে আগে গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা দাবি আদায় করতে চান, তবে সরকার বাধা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজপথের আন্দোলন সবসময়ই ক্ষমতার পটপরিবর্তন বা দাবি আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। ১১ দলীয় জোটের এই নতুন কর্মসূচি এবং সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্রতর হতে পারে। বিশেষ করে গণভোটের রায়ের মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যুকে সামনে রেখে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা যেভাবে মাঠে নামছে, তা সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন চায় স্থিতিশীলতা এবং সঠিক সংস্কার, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর এই মুখোমুখি অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ধাবিত হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
রাজনীতি

গণভোটের দাবিতে শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় জোট

R
Roksana | 02 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার