ফুটবল বিশ্বের উন্মাদনা অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবার পর্দা উঠছে ইতিহাসে বৃহত্তম ফুটবল আসরের। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অনেক আগেই বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাছাইপর্বের দীর্ঘ লড়াই শেষে এখন বিশ্বকাপের মূল আসরের ৪৮টি নাম চূড়ান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৯টি দল সরাসরি জায়গা করে নিলেও স্বাগতিক হিসেবে আগেই নিশ্চিত ছিল মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম। গত সপ্তাহে নাটকীয় অন্তিম পর্বের (প্লে-অফ) লড়াই শেষে অবশিষ্ট ৬টি দলও এখন চূড়ান্ত।
আসন্ন এই মহাযজ্ঞের ফরম্যাটে এসেছে আমূল পরিবর্তন। ৪৮টি দলকে মোট ১২টি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে লড়বে ৪টি করে দল। তবে এবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ৩২ দলের নকআউট পর্ব (যেখান থেকে হারলেই বিদায় নিতে হবে)। এর আগে বিশ্বকাপে সরাসরি শেষ ষোলোর লড়াই হতো, কিন্তু এবার যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত একটি ধাপ।
নতুন নিয়মে ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়া মোট ২৪টি দল সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। বাকি ৮টি দল নির্বাচন করা হবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্য থেকে। পয়েন্ট তালিকা, গোলের ব্যবধান ও নিয়মানুবর্তিতা (কার্ডের হিসাব) বিবেচনা করে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ৮টি দল ৩২ দলের নকআউট রাউন্ডে যোগ দেবে। ফলে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই এখন দলগুলোর জন্য বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হবে।
এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলগুলোর বিন্যাস:
গ্রুপ ‘ক’: মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।
গ্রুপ ‘খ’: কানাডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কাতার ও সুইজারল্যান্ড।
গ্রুপ ‘গ’: ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
গ্রুপ ‘ঘ’: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক।
গ্রুপ ‘ঙ’: জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর।
গ্রুপ ‘চ’: নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া।
গ্রুপ ‘ছ’: বেলজিয়াম, মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড।
গ্রুপ ‘জ’: স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে।
গ্রুপ ‘ঝ’: ফ্রান্স, সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে।
গ্রুপ ‘ঞ’: আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
গ্রুপ ‘ট’: পর্তুগাল, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।
গ্রুপ ‘ঠ’: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা।
বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও, এটি অনস্বীকার্য যে এর মাধ্যমে ছোট দেশগুলোর সামনে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের অবারিত সুযোগ তৈরি হয়েছে। ৪৮ দলের এই মেগা আসর বিশ্ব ফুটবলের বৈচিত্র্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, অধিক দলের উপস্থিতিতে ফুটবলের মান কি আগের মতোই অটুট থাকবে, নাকি এটি কেবলই বাণিজ্যিক প্রসারের একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে? তবুও ফুটবল প্রেমীদের প্রত্যাশা, উত্তর আমেরিকার সবুজ ঘাসে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব।