রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ (রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ) বাতিলের সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় প্রধান সচেতক (চিফ হুইপ) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নীরবতা ভেঙে রাজপথে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে এক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করার বিষয়টি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. ইউনূসের ঘরে বসে থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন অনেকগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার পেছনেও সেই সময়ের প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। তাই বর্তমান সরকারের নেওয়া অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসকেই সবার আগে সোচ্চার হতে হবে।
বিরোধীদলীয় প্রধান সচেতক মনে করেন, অধ্যাদেশগুলো বাতিলের বিষয়টি কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের আমলে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যদি বর্তমান সরকার বাতিল করে দেয়, তবে তার নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তাই নিজের কাজের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় তাকে রাজপথে সক্রিয় হতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই শীর্ষ নেতা আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা না করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যদি বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করা না হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অধ্যাদেশ বা রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ক্ষমতার পালাবদলের সময় এই আইনি কাঠামো নিয়ে প্রায়ই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নাহিদ ইসলামের এই আহ্বান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হওয়ার এক নতুন চাপ সৃষ্টি করল। তবে দেখার বিষয় হলো, এই আহ্বানে ড. ইউনূস সাড়া দেন কি না এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুটিকে কীভাবে গ্রহণ করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সকল পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।