দীর্ঘ চিকিৎসায় শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (সিসিইউ) থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার ভোরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরিয়ে কেবিনে নেওয়া হয়। মির্জা আব্বাসের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থার স্থিতিশীলতা আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং সীমিত পরিসরে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। তবে পূর্ণ সুস্থতার জন্য তাকে আরও কিছুদিন চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এই কঠিন সময়ে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে তার পরিবার।
স্মরণ করা যেতে পারে, গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজানের ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের (নিউরো বিশেষজ্ঞ) সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসিবোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ মার্চ তার মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা স্থায়ী সেই অস্ত্রোপচার শেষে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে গত ১৫ মার্চ আকাশপথের অ্যাম্বুলেন্সে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর অবশেষে তার স্বাস্থ্যের এই উন্নতি পরিলক্ষিত হলো।
দেশের রাজনীতির একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই অসুস্থতা তার দল ও অনুসারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে তার স্বাস্থ্যের উন্নতির খবরটি নিশ্চিতভাবেই স্বস্তিদায়ক। আধুনিক চিকিৎসার সুফল এবং দেশবাসীর প্রার্থনা তাকে দ্রুত আবারও কর্মময় জীবনে ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতাই কাম্য।