ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব পুনরায় তলব করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই কড়া পদক্ষেপে দেশের ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ফেরাতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলাম স্বপন এবং তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর আগেও কয়েক দফায় সপরিবারে তাঁর হিসাব তলব এবং লেনদেন বন্ধ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এবার নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাসেই আমিনুল ইসলাম এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৭৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই সময় এসব হিসাবে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা জমা ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। কেবল ব্যাংক হিসাবই নয়, বরং আমিনুল ইসলামের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ বা জমি-জমা ক্রোক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তিনি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি বড় ব্যাংক থেকে ভুয়া ও বেনামি ঋণের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আর্থিক খাতের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা পরিবারসহ এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন এবং নাবিল গ্রুপের মতো দশটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
বিএফআইইউ-এর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক লেনদেনের আদ্যোপান্ত এখন গোয়েন্দাদের হাতের নাগালে আসবে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঋণের নামে নেওয়া এই টাকাগুলো দেশের ভেতরেই আছে নাকি বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়াকে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ঋণখেলাপি ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে এই ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। নাবিল গ্রুপের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের ব্যাংক হিসাব তলব করার মাধ্যমে সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, অনিয়ম করে কেউ রেহাই পাবে না। তবে কেবল হিসাব তলব বা জব্দ করাই যথেষ্ট নয়, বরং আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার করে জাতীয় অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।