দেশের বাজারে সোনার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত মঙ্গলবার বাজুসের মূল্য সমন্বয়ের পর আজ শুক্রবারও (১৭ জুলাই) আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে এই মূল্যবান ধাতু। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্যায়নে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছিল। পরবর্তী নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি বা অলঙ্কার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সবশেষ সমন্বিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সরকারি ভ্যাটসহ (মূল্য সংযোজন কর) প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে দেশীয় বাজারে এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস তাদের নির্দেশনায় জানিয়েছে, সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট পূর্ব থেকেই যুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে অলঙ্কার ক্রয়ের সময় কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করতে পারবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা ও অলঙ্কার তৈরির ধরন অনুযায়ী আলাদা মজুরি বা তৈরির খরচ প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া সোনার অলঙ্কার পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ বা বদলানো) এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনরায় বিক্রয়ের (পারচেজ বা বিক্রি করা) ক্ষেত্রে বাজুসের আগের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মজুরি, ভ্যাট এবং অলঙ্কারে থাকা পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে পুনরায় ক্রয়মূল্য হিসাব করা হবে। তা ছাড়া সোনার দাম কমার কারণে বাজারে অলঙ্কার কেনার চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। রুপা আগের নির্ধারিত পুরোনো দামেই বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যের ওঠানামা, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজুস নিয়মিত সোনার দাম সমন্বয় করে থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল থাকলে দেশের বাজারেও সোনার দামের এই ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে অলঙ্কার ক্রয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে রসিদ ও হলমার্ক (খাঁটি সোনার সিল) দেখে কেনার পরামর্শ দিয়েছে বাজুস, যাতে পরবর্তীতে কোনো বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয়।