নিত্যপণ্যের চড়া বাজারের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের রান্নাঘরের হিসাব এখন ওলটপালট।
সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে জ্বালানি তেলের পর এবার এলপি গ্যাসের দামে নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি এপ্রিল মাসেই দুই দফায় এই সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হলো। মাসের শুরুতে এক দফায় দাম বেড়েছিল ৩৮৭ টাকা, আর এখন নতুন করে দাম বাড়ায় সাধারণ ভোক্তার পকেট ফাঁকা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রাজধানীর একটি বড় অংশসহ দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী রান্নার জন্য পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানাচ্ছেন, মাসখানেক আগেও যেখানে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় সিলিন্ডার মিলত, এখন তা ২ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোয় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি খাতে ব্যয় বাড়লেও আয় না বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সিলিন্ডার গ্যাস এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লেগেছে খাদ্যপণ্যের বাজারেও। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মহাবিপদে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও খাবারের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না, কারণ তাতে ক্রেতা হারানোর ভয় থাকে। ফলে লাভের বদলে লোকসানের পাল্লাই ভারী হচ্ছে তাদের। খুচরা বিক্রেতারাও দুশ্চিন্তায় আছেন; তাদের মতে, দাম বাড়লে মানুষের কেনা কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেচাকেনায়। অনেকের পক্ষে দোকানের ভাড়াই তোলা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ৯ টাকা ৭৩ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়াতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জ্বালানি শক্তির দাম বাড়লে তার প্রভাব চক্রাকারে সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর পড়ে। এলপিজির এই দফায় দফায় দাম বাড়ানো কেবল রান্নাঘরের ব্যয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিকল্প জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এই আকাশচুম্বী ব্যবধান মানুষ আর কতদিন সইতে পারবে?