Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

চেয়ারম্যান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা: পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা উত্তোলন

Roksana
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
চেয়ারম্যান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা: পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা উত্তোলন

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে গ্রাহকেরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ব্যাংকটির সাধারণ কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের চলমান আন্দোলনের কারণে গ্রাহকদের মনে এক ধরণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ব্যাংকটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতেই গ্রাহকদের আমানত প্রত্যাহারের এই অস্বাভাবিক হিড়িক দেখা যায়। গত ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত মাত্র চার কার্যদিবসের ব্যবধানে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা তুলে নেন। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী কার্যদিবস অর্থাৎ ৭ জুন কেবল একদিনেই আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। পাঁচ দিনের ব্যবধানে এত বিশাল অঙ্কের আমানত প্রত্যাহারের ঘটনা ব্যাংকটির সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই সংকটের মূল সূত্রপাত হয় গত ২৪ মে, যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর (উপ-গভর্নর) মো. খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ ঠেকাতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ও গ্রাহকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নতুন চেয়ারম্যান সরাসরি ব্যাংকে এসে বোর্ড সভা করতে পারেননি; পরিস্থিতি বিবেচনায় তার প্রথম কর্মদিবসের বোর্ড সভাটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ব্যাংকের পূর্বতন চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তোলে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের আমানত তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক) আলতাফ হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিচ্ছেন, এটি সত্য। তবে এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংকের ঋণ অনুমোদনসহ অন্যান্য সমস্ত দাপ্তরিক ও আর্থিক কার্যক্রম অত্যন্ত কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

এদিকে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ নগদ আকারে তুলে নিচ্ছেন নাকি অন্য কোনো ব্যাংকে স্থানান্তর (ট্রান্সফার) করছেন, তাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, তবে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য (সহজে ব্যবহারযোগ্য নগদ অর্থ) সহায়তা দেবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) পুনর্গঠন করার পর ব্যাংকটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের প্রথমভাগে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায়। কিন্তু নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনা ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় একটি নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করল।

বর্তমানে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের আন্দোলন দেশজুড়ে আরও ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং অবিলম্বে খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং আকস্মিক নেতৃত্ব পরিবর্তন ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস নষ্ট করছে। অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের বাইরে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ রাখার প্রবণতা বাড়ার কারণে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এক ধরণের আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।


আর্থিক খাতের প্রধান ভিত্তি হলো গ্রাহকদের বিশ্বাস ও আস্থা। ইসলামী ব্যাংকের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে যখন কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের মতো ঘটনা ঘটে, তখন তা কেবল একটি ব্যাংকের সংকট থাকে না, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের স্থায়িত্বের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়। যেকোনো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মনোভাব এবং বাজারের মানসিকতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকদের এই আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

চেয়ারম্যান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা: পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা উত্ত...

R
Roksana | 08 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার