বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ফলাফল ঘোষণার পর জাইমা নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, যা তার অনুসারী ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইন পেশায় যোগদানের প্রাথমিক এই কঠিন ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করার খবর জাইমা তার ফেসবুক স্টোরিতে শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। দেশের একটি গণমাধ্যমে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপ এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিই। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।” জাইমা রহমান ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার রাতেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এই এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফলাফলে সারা দেশ থেকে মোট ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবারের পরীক্ষায় সারাদেশে ৩৭ হাজার ৮০ জন আবেদনকারী অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রথম ধাপেই বাদ পড়েছেন। আইন পেশায় প্রবেশের এই এমসিকিউ পরীক্ষা দেশের আইন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম একটি কঠিন ধাপ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি সুনির্দিষ্ট ত্রৈমাসিক পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে। এই ধাপগুলো হলো: এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী প্রশ্ন), লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা। তিন ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই একজন ব্যক্তি আইন পেশায় যোগদানের যোগ্যতা অর্জন করেন এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে একজন সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এই ত্রৈমাসিক প্রক্রিয়াটি একজন প্রার্থীর আইন জ্ঞান, বিশ্লেষণাত্মক সক্ষমতা এবং আইন প্রয়োগের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বার কাউন্সিল কর্তৃক তালিকাভুক্ত আইনজীবীরা বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে আইন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশায় নিয়োজিত হতে চাইলে তাদের জন্য পৃথক পরীক্ষা ও তালিকাভুক্তির বিধান রয়েছে, যা আরো কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করে। প্রথম ধাপের এই সাফল্য জাইমা রহমানকে তার কাঙ্ক্ষিত পেশা অর্জনের পথে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।