জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছে আদালত। আগামী ৩০ জুন এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করে। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর (অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ও ফারুক আহাম্মদ।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সাতজনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে এ মামলা করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম ও সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং বেসরকারি চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে পুলিশ হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে। এরপর একই বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ শুনানির পর গত ১৪ মে এ মামলার আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
এর আগে শুনানিতে প্রসিকিউশনের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম আদালতকে জানান, হাসানুল হক ইনু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। আন্দোলন চলাকালীন তিনি নিয়মিত শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং দমন-পীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পরামর্শ দিতেন। এ ছাড়া তিনি তাঁর দলীয় কর্মী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর মধ্যকার একটি বিতর্কিত ফোনালাপের অডিও রেকর্ড এবং এর অনুলিপি (ট্রান্সক্রিপ্ট) বিশেষজ্ঞ মতামতসহ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফোনালাপে আন্দোলন দমাতে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং ছত্রীসেনা (প্যারাট্রুপার) নামিয়ে গুলি করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এমনকি সাধারণ আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁদের হত্যা করার ছক সাজানো হয়েছিল বলেও শুনানিতে দাবি করে প্রসিকিউশন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন সফলভাবে দমনের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও দলীয় কর্মীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত আটটি অভিযোগের মধ্যে দুটি সুনির্দিষ্ট হত্যাযজ্ঞের ঘটনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন আগামী ৩০ জুন এই বহুল আলোচিত মামলার রায় জানা যাবে।