সরকারি সম্পদ বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া দীর্ঘদিনের ১৫টি মামলা থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান সংশ্লিষ্ট মামলার যাবতীয় নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫টি মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এবং আদালতের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ জানা সম্ভব হয়নি।
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বিগত ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি বাড়ি ও প্লট বরাদ্দ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছিল এসব মামলায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাকে সবকটি মামলা থেকেই বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
এদিকে জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিবিদ বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ পবিত্র মাহে রমজানের ইফতারের সময় হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে সেখানে তার মস্তিষ্কে একটি জটিল ও জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৫ মার্চ বিশেষায়িত বিমান অ্যাম্বুলেন্সে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) করে মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে গত ১৪ এপ্রিল তাকে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি কুয়ালালামপুরের ওই হাসপাতালে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।