Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

জ্বালানি পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্বস্তি নাকি নতুন ভোগান্তি?

BNJK
29 August 2026, 02:03 AM পড়তে ১ মিনিট
জ্বালানি পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্বস্তি নাকি নতুন ভোগান্তি?

 রাজধানীর রাজপথে তপ্ত দুপুরের ক্লান্তি ছাপিয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে এখনও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে গাড়ির সারি। জ্বালানি তেলের বাজারে স্বচ্ছতা আনতে ও অস্থিরতা নিরসনে শুরু হওয়া অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রমের পরিধি বাড়লেও, মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্রটি এখনও অমলিন।

 রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে (জ্বালানি তেল সরবরাহ কেন্দ্র) বর্তমানে দ্রুত সংকেত শনাক্তকরণ বা কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’-এর মাধ্যমে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর রমনা ও তেজগাঁও এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, নতুন এই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করায় পাম্পের প্রবেশমুখের বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমলেও তেলের জন্য অপেক্ষমাণ লাইনের দৈর্ঘ্য মোটেও কমেনি। বরং যান্ত্রিক ও কারিগরি জটিলতায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন কারিগরি ত্রুটির কারণে ‘অ্যাপে’ নাম নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না, তখন ভোক্তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে পাম্প কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে যারা বাটন ফোন (সাধারণ মোবাইল সেট) ব্যবহার করেন কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা রাখেন না, তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন বাগ্‌বিতণ্ডা হয়ে দাঁড়াচ্ছে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

তবে প্রযুক্তিতে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম ও রাইড শেয়ারিং (ভাড়াটে মোটরবাইক সেবা) চালকদের কাছে এই পদ্ধতি কিছুটা সহজ মনে হয়েছে। অনেককে দেখা গেছে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদের নাম নিবন্ধনে সহযোগিতা করতে। এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য সচল মোবাইল নম্বর ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ নামিয়ে বাইকের চেসিস ও ইঞ্জিনের শেষ চারটি সংখ্যা দিয়ে একবার নিবন্ধন করলেই কিউআর কোড পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি কোড যাচাই করা, তেলের দাম মেটানো এবং ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে প্রতি গ্রাহকের পেছনে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে, যা লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভোগান্তির মাঝেও কিছু ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছিল না, এখন অ্যাপ ব্যবহারকারীরা অনায়াসেই ১ হাজার ৫০০ টাকা বা ‘ফুল ট্যাংক’ (ট্যাঙ্কি পূর্ণ) তেল নিতে পারছেন। শাহবাগের একটি পাম্পে অপেক্ষমাণ এক বাইকার বলেন, “লাইন লম্বা হলেও এখন নিশ্চিতভাবে পুরো ট্যাঙ্ক ভর্তি তেল পাচ্ছি, এটাই বড় স্বস্তি।”

এদিকে, রাজধানীর রমনা এলাকার পাম্পগুলোতে আসা মোটরবাইক ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন সেগুনবাগিচা মোড় থেকে মৎস্য ভবন ও বারডেম হাসপাতাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বারডেম হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো জ্যামের কারণে নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। মতিঝিল ও আরামবাগ এলাকার পাম্পগুলোতে অনেকে এখনও অ্যাপের খবর জানেন না। পাম্প কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে কাউকে ২০০-৩০০ টাকার তেল দিয়ে বিদায় করছেন এবং পরের বার অ্যাপ ব্যবহারের জন্য সতর্ক করে দিচ্ছেন।

পাম্প পরিচালনাকারীরা আশা করছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন পদ্ধতির সঙ্গে সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

 যে কোনো নতুন পদ্ধতি চালুর শুরুতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা বা প্রাথমিক জড়তা থাকে, যা আমরা জ্বালানি পাম্পগুলোতেও দেখতে পাচ্ছি। ‘ফুয়েল পাস’ যদি সত্যিই তেলের কালোবাজারি রোধ করতে পারে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীর জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করে, তবে এই সাময়িক কষ্ট সার্থক হতে পারে। তবে হাসপাতালে যাতায়াতের পথ সুগম রাখা এবং প্রযুক্তিহীন মানুষের জন্য সহজতর বিকল্প ব্যবস্থার কথা প্রশাসনকে গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

জ্বালানি পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্বস্তি নাকি নতুন ভোগান্তি?

B
BNJK | 23 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার